মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে মার্কি বলেন, এ হামলার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এটি সকল আমেরিকান নাগরিকের জন্য বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
মার্কি বলেন, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে অতিমাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তা অত্যধিক বিপজ্জনক হিসেবে দেখিয়েছেন। এমনকি গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের অবৈধ হামলার সময়, মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিধ্বস্ত করা হয়েছে দাবি করার পরও ট্রাম্প বারবার ইরানের হুমকি আসন্ন বলেই মন্তব্য করেছেন।
এর আগে, শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী হামলা শুরু করে। হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বনির্ধারিত এ অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান ও কারাজ শহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এরই মধ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এরপর বাহরাইন, কুয়েত, আবুধাবি, দুবাই, আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। বাহরাইন জানায়, দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উদ্যোগে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউস-এ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত মানতে রাজি হচ্ছে না ইরান, যা উদ্বেগজনক। একই সময়ে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-য় ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখনো কার্যকর সমাধানের ইঙ্গিত মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যখন ট্রাম্প তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলার নির্দেশ দেন। প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বিরোধের পর এটিই ছিল ইরানের ওপর বড় ধরনের সরাসরি মার্কিন হামলা।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানে চলমান আন্দোলনে অন্তত ৫ হাজার ৫২০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭। কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের পর আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হলেও এটিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দমন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।








