মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের ক্ষেত্রে তিনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বেশ মতভেদ রয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তার এবং ভ্যান্সের মধ্যে কোনও মতবিরোধ আছে কিনা, প্রশ্নের জবাবে একথা জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের বিষয়ে তাদের মতপার্থক্যের বিষয়ে ট্রাম্প এমন সময়ে মন্তব্য করেছেন- যখন ভ্যান্স, বিদেশে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তিনি অভ্যন্তরীণভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, হামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে, ভ্যান্স সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা মেরিন কর্পসের একজন প্রবীণ সৈনিক। বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ সম্পর্কে ভ্যান্সের অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার কয়েকদিন আগে, ভ্যান্স ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন, আমেরিকা যদি হামলা চালিয়ে এগিয়ে যায় তবে ইরানে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কোনও সম্ভাবনা নেই।
ভ্যান্স ফক্স নিউজের সাথে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে একই অনুভূতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অনেক বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
ভ্যান্স বলেন “ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দেশকে বহু বছরের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে দেবেন না যার কোনো স্পষ্ট পরিণতি এবং স্পষ্ট লক্ষ্য নেই।
রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প এবং অতীতের রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয়ের ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্টভাবে আলাদা এবং তা হল তারা তাদের দেশকে যুদ্ধে যেতে দেবেন না, যদি না কোন বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে।”
তিনি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্নির্মাণ না করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। এটা বেশ স্পষ্ট এবং সহজ। আমি মনে করি, আমরা ইরাক এবং আফগানিস্তানের সাথে যে সমস্যায় মধ্যে পড়েছি তাতে আর জড়াবো না।”
ট্রাম্প বলেন, “আমরা আমাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের দিকে বড় অগ্রগতি অর্জন করছি এবং এটি বেশ ভালভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলা যায়। আমরা ইরানের প্রতিটি শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করেছি।”


