যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির শিকার হয়ে ১০ বছর বয়সী মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিশু ও তার পুরো পরিবারকে মেক্সিকোতে নির্বাসিত করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে এবং দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিলাড এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে টেক্সাসের এক পরিবারের সাথে এই ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টেক্সাসের এক পরিবার গত মাসে রিও গ্র্যান্ড থেকে হিউস্টনে যাচ্ছিল, যেখানে তাদের ১০ বছর বয়সী কন্যাশিশুর চিকিৎসকরা রয়েছেন। মস্তিষ্কের ক্যান্সার অপারেশনের পর তার নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এই যাত্রা ছিল অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের গাড়ি আটকে দেয় এবং দস্তাবেজগুলো পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করে। এর আগে পাঁচবার একই নথি দেখিয়ে তারা সীমান্ত পার হতে পেরেছিল, কিন্তু এবার কোনো কারণ ছাড়াই অভিভাবকদের আটক করা হয়।
গাড়িতে পরিবারের মোট পাঁচজন শিশু ছিল, যার মধ্যে চারজন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা নাগরিক। কিন্তু অভিভাসন আইন অনুযায়ী, অভিভাবকদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিশুরা হয় ফোস্টার কেয়ারে চলে যাবে বা পরিবারসহ দেশ ছাড়তে হবে। অবশেষে মা-বাবা তাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং পুরো পরিবারকে মেক্সিকোতে নির্বাসিত করা হয়।
মাত্র ১০ বছর বয়সী কন্যাশিশু মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের পর থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিল। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ জরুরি, নইলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এছাড়াও পরিবারের ১৫ বছর বয়সী বড় ছেলেটিও হৃদরোগে আক্রান্ত। তার রয়েছে ‘লং কিউটি সিনড্রোম’, যা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
শিশুটির মা জানান, আমাদের সন্তানদের জন্য সঠিক চিকিৎসা আর পাব না। এখানে আমরা নিরাপদ নই।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন। ২০২৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘অভিবাসন শুদ্ধি অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন, যেখানে মিশ্র-নাগরিকত্বের পরিবারগুলোকেও টার্গেট করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা টম হোম্যান এর আগে বলেছিলেন, আপনি জানতেন যে আপনি অবৈধভাবে এখানে আছেন এবং তারপরও সন্তান নিয়েছেন। তাই এই পরিস্থিতির জন্য আপনি নিজেই দায়ী।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একটি ১০ বছর বয়সী শিশুকে তার জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা নিছক নিষ্ঠুরতা।
শিশুর পরিবার এখন মেক্সিকোতে একটি অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে। কিন্তু তাদের সামনে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা। শিশুর মা জানান, আমার সন্তানেরা ভয় পাচ্ছে। আমাদের পাঠানো জায়গাটি খুবই বিপজ্জনক। এখানে মার্কিন নাগরিকদের অপহরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কোনো সহজ পথ নেই। আইনি লড়াই চালানোর জন্য তাদের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন, যা তারা সংগ্রহ করতে পারছে না।








