প্রথম ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখাতে চলেছেন অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত কানাডার খেলোয়াড় ড্যানিয়েল ম্যাকগাহে। ২০২৪ মেয়েদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ে খেলবেন তিনি।
ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি’র সকল যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেছেন ২৯ বর্ষী ওপেনিং ব্যাটার ড্যানিয়েল। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব সামনে রেখে তাকে দলে ডেকেছে কানাডা।
সবশেষ ২০২১ সালে খেলোয়াড়দের যোগ্যতার বিধি-বিধানের নিয়ম হালনাগাদ করে আইসিসি। যেখানে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের খেলার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়। নিয়মানুযায়ী, এই সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে যাদের সিরামে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি লিটারে 5nmol-এর নিচে থাকে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। এই মাত্রা সর্বনিম্ন ১২ মাস ধরে ক্রমাগত মানদণ্ডের নিচে থাকতে হবে।
পাশাপাশি একজন নারী ক্রিকেটার হিসেবে খেলার সময় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বজায় রাখতে হবে। এছাড়া মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে একটি লিখিত এবং স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করতে হবে। যেখানে তার লিঙ্গ পরিচয় হবে ‘নারী’।
আইসিসি’র নির্ধারণ করা নিয়মটি অনুসরণ করে নারী ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন ম্যাকগাহে। অ্যাথলেটিকস, সাইক্লিং, সুইমিং ও বোথ কোড অব রাগবিতে ট্রান্সজেন্ডারদের খেলার সুযোগ না থাকলেও ক্রিকেটে তাদের সুযোগ দেয়ায় উচ্ছ্বসিত ম্যাকগাহে।
বলেছেন, ‘আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হতে পেরেছি। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে আমি এটি করতে পারব।’
‘টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারণ করার জন্য, আমি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিমাসে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছি। কার বিরুদ্ধে খেলেছি এবং কত রান করেছি তাও আমাকে প্রোফাইলে রাখতে হবে। ডাক্তাররা আমার চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য আইসিসির কাছে পাঠানোর জন্য অনেক কাজ করেছেন। প্রতিমাসে রক্ত পরীক্ষা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কেননা ক্রিকেটে ভ্রমণ করতে হয়।’
আইসিসি’র ট্রান্সজেন্ডার নীতিকে ‘অন্যায় ও অনিরাপদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে মেয়েদের যৌন অধিকার রক্ষা করা সংক্রান্ত সংগঠন উইমেনস রাইটস নেটওয়ার্ক (ডব্লিউআরএন)। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, যাদের জন্মের সময় লিঙ্গ নারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, এমন ট্রান্সজেন্ডাররা সাধারণ নারী অ্যাথলেটদের তুলনায় ‘উল্লেখযোগ্য সুবিধা’ পায়। আইসিসি’র এ নীতি ‘অন্যায় ও অনিরাপদ’।








