টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব)-এর উদ্যোগে ৩৬তম ট্রাব বিজনেস, সিএসআর এন্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রয়াত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদকে মরণোত্তর সম্মাননা, বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী ও বরেণ্য জাদুশিল্পী জুয়েল আইচকে আজীবন সম্মাননা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হবে।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রিস্টাল বলরুমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অর্থ, শিল্প, বাণিজ্য, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত ও সাংবাদিকতা বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে ট্রাব অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ প্রদান ও জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
দিল্লির এক পরিবারের সন্তান বশির আহমেদ কলকাতায় ওস্তাদ বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে সংগীত শেখার পর মুম্বাইয়ে চলে যান। সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে তালিম নেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে উর্দু চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করে বশির আহমেদ।
চলচ্চিত্রে ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ গানটি পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রাগ সংগীতেও দখল ছিল তার। তালাশ চলচ্চিত্রে বিখ্যাত শিল্পী তালাত মাহমুদের সঙ্গে কাজ করেন। ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় তিনি মারা যান। ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ ছবিতে গানের জন্য ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ গায়ক) এবং ২০০৫ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
সৈয়দ আবদুল হাদী ১৯৪০ সালের ১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সৈয়দ আবদুল হাদী দেশাত্ববোধক গানের জন্য জনপ্রিয়। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংগীত করছেন। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (গোলাপী এখন ট্রেনে – ১৯৭৮, সুন্দরী – ১৯৭৯, কসাই – ১৯৮০, গরীবের বউ – ১৯৯০, ক্ষমা- ১৯৯২) ঢাকা ৮৬ চলচ্চিত্রের ‘আউল-বাউল লালনের দেশে মাইকেল জ্যাকসন এলোরে’ গানটির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন৷
গৌরাঙ্গ লাল আইচ প্রকাশ জুয়েল আইচের জন্ম ১০ এপ্রিল বরিশালে হলেও ছেলেবেলা কেটেছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমুদয়কাঠির গ্রামের বাড়িতে। খুব ছোটবেলা বাড়িতে বেদেবহর এসেছিল, তাদের কাছেই প্রথম যাদু দেখে ভালো লেগে যায় জুয়েল আইচের। সেই ভালোলাগা ভালোবাসায় পরিণত হয় বানারীপাড়া সার্কাস দলের এক যাদুকরের গলা কাটার যাদু দেখে।
পরে ওই যাদুটা এক বন্ধুর ওপর প্র্যাকটিস করে কিছুটা সফলও হন। যাদুর প্রতি তার ভালোবাসাটা উন্মাদনায় পরিণত হয় সিরাজগঞ্জের যাদুকর আবদুর রশিদের যাদু দেখে, আর বন্দে আলী মিয়ার রূপকথা পড়ে। একটু একটু করে যাদু শিখতে লাগলেন তখন থেকেই, বিভিন্নজনের কাছে। তার বিখ্যাত যাদু — কাগজ থেকে ডলার বানানো, চোখ বেঁধে গাড়ি চালানো, কাটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জোড়া লাগানো ইত্যাদি।







