ভাষাবিদ জামিল চৌধুরীর ৯০তম জন্মদিন আজ শুক্রবার ৫ জুলাই। বর্তমানে তিনি কানাডায় একমাত্র মেয়ে অহনা চৌধুরীর কাছে প্রবাস জীবন যাপন করছেন।
বাংলাদেশের টেলিভিশন মাধ্যমের ইতিহাস লিখতে গেলে যে কজন ব্যক্তির নাম উঠে আসবে তাদের মধ্যে সর্বপ্রথমেই থাকবেন পাকিস্তান আমলে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টিভি কেন্দ্রের প্রধান জামিল চৌধুরী।
জামিল চৌধুরী বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। পাকিস্তান আমলে ঢাকা টিভি কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করার পেছনে তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। ‘ছায়ানটে’র সঙ্গে জড়িত প্রগতিশীল এই মানুষটি ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে রামপুরার টিভি ভবনে যে হত্যাকাণ্ড ঘটে তার প্রতিবাদে সেই যে টিভি ভবন ত্যাগ করলেন তারপর বহু বছর তাকে টিভি ভবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
তবে তিনি এসেছিলেন অনেক পরে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অনুরোধে ২০১৪ সালে বিটিভির পঞ্চাশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে। গণমাধ্যম, ভাষা ও সাহিত্যে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালে তাকে রাষ্ট্রের বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করেন। তার আগে ২০১৩ সালে চ্যানেল আই এর প্রতিষ্ঠাতা ফরিদুর রেজা সাগর বিটিভির প্রতিষ্ঠা দিবসে তাকে চ্যানেল আই থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে ঢাকা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান সমাপ্তিকালে পর্দায় পাকিস্তানের পতাকা দেখানো হয়নি। নেপথ্য থেকে এ কাজে যিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি জামিল চৌধুরী আর তা বাস্তবায়ন করেন মুস্তাফা মনোয়ার। ২৫ মার্চের পর জামিল চৌধুরী ও মুস্তাফা মনোয়ার ঢাকা ছেড়ে চলে যান ভারতে, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে।
তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘জাতীয় সম্প্রচার একাডেমি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীকালে যার নাম হয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট’। জামিল চৌধুরী, ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্রের একজন প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম মহাপরিচালক এবং জাতীয় সম্প্রচার একাডেমির প্রথম প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক।








