উৎসবের শহর বগুড়ায় শুরু হয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সংগীত আয়োজন ‘টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এর ২০তম আসর। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনের পর্দা উঠে সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে ওঠেন দেশের প্রবীণ ও নবীন প্রজন্মের একঝাঁক শিল্পী। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ এবং ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’- যা দিয়ে শুরুতেই তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
এ সময় মঞ্চে দেখা গেছে খুরশীদ আলম, রফিকুল আলম, অনিমা রায়, আতিয়া আনিসা, মেজবাহ বাপ্পী, রোমানা ইসলাম, সাব্বির রহমান, লুইপা, সাবরিনা সাবাসহ অনেক শিল্পীকে।
বগুড়ার মম ইন-এর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে উপস্থিত আছেন টিএমএসএস প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, টিএমএসএস এর প্রধান উপদেষ্টা ডাক্তার মওদুদ হোসেন পাবেল, অন্য প্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সানাউল আরেফিন, ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত মুকিত মজুমদার বাবু, প্রখ্যাত টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমান ও প্রকল্প পরিচালক রাজু আলীমসহ বগুড়ার স্থানীয় প্রশাসনের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এই আয়োজনের সার্বিক দিক নিয়ে কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের সব শিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি টিএমএসএসকে এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
ফরিদুর রেজা সাগর এসময় বলেন, আমরা সব সময় শিল্পীদের চ্যানেল আইয়ের পরিবারের অংশ মনে করি। এসময় তিনি একটি ঘোষণা দিয়ে বলেন,“প্রয়াত আজম খানের ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ডটি হারিয়ে যাচ্ছিল। আমরা তাদের খুঁজে বের করেছি। চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের এই আয়োজনের পর আবার তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করবে।”
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংগীত হচ্ছে মানুষের সুকুমার বৃত্তিকে প্রবাহিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। মানুষের যে কোনো অনুভূতি প্রকাশ করার এই একটি মাধ্যম, যা দিয়ে কোনো অপরাধের ভাষাকে বিনিময় করা যায় না। এটা একমাত্রই প্রকৃতি থেকে মানুষ তার মধ্যে যে সুকুমার বৃত্তিগুলো পেয়েছে, কেবলমাত্র তার বিনিময় করা যায় সংগীতের মাধ্যমে। এবং এই প্রবাহ যাদের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তারা আমাদের জাতীর জন্য সম্পদ।
তিনি বলেন, চ্যানেল আই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা এই ক্ষেত্রের গুরুত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছেন। এবং সকলকে লাগাতারভাবে পৃষ্টপোষকতা করে চলছেন, বিশেষ করে অনুপ্রেরণা উৎসাহ দিয়ে চলেছেন পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে সাগর ভাইয়ের (ফরিদুর রেজা সাগর) মুখ থেকে শুনেছি আজকেও একই উদ্দেশে তারা দেশের প্রবীন থেকে নবীন, সব শিল্পীকে এখানে জড়ো করেছেন। আমি সরকারি দায়িত্বের বলে ঘটনাচক্রে এখানে উপস্থিত, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এখানে উপস্থিত হওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের।
এসময় তথ্যমন্ত্রী বলেন,“সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের জানিয়ে রাখতে চাই,, চ্যানেল আইসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠান সংগীতসহ যে কোনো সৃষ্টিশীল জগতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে, সরকার তার সকল শক্তি সামর্থ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে।”
বক্তব্যের শেষে চ্যানেল আইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন,“চ্যানেল আইকে এমন আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি একটি বিষয় জানিয়ে রাখতে চাই, চ্যানেল আইয়ের এই উদ্যোগের কারণে দেশের শিল্পী সমাজ যেমন অনুপ্রাণিত, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষও তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সভ্যতার এই অংশটুকুকে তারা প্রজ্জ্বলিত রেখেছেন। আমার দায়িত্বকালীন সময়ে আপনাদের যে কোনো উদ্যোগের সাথে থাকার আশা ব্যক্ত করছি।”
এর আগে গতকাল থেকে থেকেই বগুড়া শহরজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। দুদিন ধরে ব্যান্ড পার্টির বাজনা, রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন আর তারকাদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই আয়োজন এবার উদযাপন করছে তার ২০তম আসর। এবারের আয়োজনে আজীবন সম্মাননাসহ মোট ১৯টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন কিংবদন্তী শিল্পী কনকচাঁপা এবং বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া।
শুধু সংগীতশিল্পীই নয়, বিনোদন অঙ্গনের নানা তারকার উপস্থিতিতে জমে উঠেছে পুরো আয়োজন। মঞ্চে পরিবেশনা করতে যাচ্ছেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, কোনাল, ঝিলিক, ইমরান মাহমুদুল, লিজা, লুইপাসহ জনপ্রিয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন নীল হুরেজাহান।







