ভোলার চরফ্যাশনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই সহোদরকে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলো নিহতদের পরিবারের।
বুধবার ( ৬ আগস্ট) দুপুরে চরফ্যাশনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শওকত হোসাইন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করলে আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রায় ঘোষণার সময় মামলার প্রধান তিন আসামি বেল্লাল হোসেন, সালাউদ্দিন বয়াতি ও শরিফুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন বিচারক। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শরিফুল কারাগারে থাকলেও অপর দুই ঘাতক বেল্লাল ও সালাউদ্দিন এখনও পলাতক।
এছাড়া, মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে অপর দুই আসামি আবুল কাশেমকে পাঁচ মাস ও আবু মাজিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হযরত আলী হিরণ। তিনি বলেন, ‘এই রায় প্রমাণ করেছে যে দেশে এখনো ন্যায়বিচার আছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত বিচার হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।’
এদিকে, রায়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজনেরা। তারা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও পলাতক আসামিদের নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ে রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল চরফ্যাশনের আসলামপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন বাগান থেকে দুটি মাথাবিহীন ও অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিকৃত ও ঝলসানো মরদেহ দুটি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এর কিছুদিন পর একই গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে নিখোঁজ মাথা দুটি উদ্ধার করা হলে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিহতরা হলেন চরফ্যাশন পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আপন দুই ভাই দুলাল চন্দ্র শীল এবং তপন চন্দ্র শীল। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় দেন।








