২০২৪ সালের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলা একাডেমির পুরস্কার ও ফেলোশিপপ্রাপ্ত গুণীজণদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৭তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাম্মানিক ফেলোশিপ এবং একাডেমি পরিচালিত ছয়টি পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় গুণীজনদের হাতে।
এ বছর সাম্মানিক ফেলোশিপ পেলেন- মঈদুল হাসান (মুক্তিযুদ্ধ); রিচার্ড এম ইটন (ইতিহাস); অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার (চিকিৎসা বিজ্ঞান), ড. ফেরদৌসী কাদরী (বিজ্ঞান), সুগত চাকমা (ভাষা গবেষণা), শহিদুল আলম (শিল্পকলা) ও শম্ভু আচার্য (শিল্পকলা)।
বাংলা একাডেমি পরিচালিত সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন সদ্যপ্রয়াত অনুবাদক ও গবেষক মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ, সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার পেলেন প্রাবন্ধিক-গবেষক ড. ওয়াকিল আহমদ, কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেলেন শিশুসাহিত্যিক আবু সালেহ, অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার পেলেন নাট্যজন নায়লা আজাদ এবং আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস।
এই পুরস্কারগুলোর অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা। এছাড়া সামগ্রিক অবদানের জন্য রাবেয়া খাতুন কথাসাহিত্য পুরস্কার তুলে দেয়া হয়েছে কথাসাহিত্যিক সুশান্ত মজুমদারের হাতে। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ২ লাখ টাকা।
অনূর্ধ্ব ৪৯ বছর বয়সী লেখকদের মধ্যে ২০২৩ সালে প্রকাশিত ‘রাইমঙ্গল’ উপন্যাসের জন্য ‘রাবেয়া খাতুন কথাসাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক সুমন মজুমদার। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা।
শনিবার সকালে বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৭তম বার্ষিক সভা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী ফেরদৌস আরার নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুরসপ্তক’-এর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বাংলা একাডেমির পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
গত সাধারণ সভার পর থেকে এক বছরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়াত গুণী ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং একাডেমির সচিব মোহা. নায়েব আলী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেট অবহিত করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
একাডেমির সদস্যবৃন্দ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। মহাপরিচালক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় ২৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সারাদেশ থেকে আগত একাডেমির ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যদের সম্মতিক্রমে অনুমোদন ঘোষণা করা হয়।
বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে এদিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, যে ঐতিহাসিক জনচাহিদায় বাংলা একাডেমির উদ্ভব হয়েছিল, প্রায় সাত দশকের ধারাবাহিকতায় একাডেমি সে চাহিদা অনেক ক্ষেত্রে পূরণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং কর্তৃত্বের কারণে সাময়িকভাবে হয়তো একাডেমির প্রত্যাশিত পথচলা বিপন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা একাডেমির গবেষণাগত পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আকর্ষণীয় গবেষণাবৃত্তি চালু করেছি, একাডেমির সেমিনারগুলোকে সাধারণ শ্রোতাবান্ধব করা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত চর্চার নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে, একাডেমির সমস্ত প্রকাশনা ডিজিটাইজড করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, একাডেমির প্রকাশনার ক্ষেত্রেও সংখ্যাগত বৃদ্ধির চেয়ে গুণগত মান নিশ্চিতের দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। আমরা আশা করি, সকলের সমবেত প্রয়াসে বাংলা একাডেমি আপনাদের, আমাদের সকলের প্রাণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, গত প্রায় সাত দশক ধরে বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও দেশজ সংস্কৃতির বিকাশে তার সাধ্যানুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একাডেমি তার কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও ফেলো, জীবনসদস্য এবং সাধারণ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশাল পরিবারের মতো। নানা বিষয়ে নানা সময়ে একাডেমি প্রতিকূলতার মোকাবেলা করেছে আবার তাকে অস্তিত্বের প্রয়োজনে হয়তো নীতির প্রশ্নে নমনীয়তাও দেখাতে হয়েছে। আমরা আশা করি একাডেমিকে ঘিরে দেশবাসীর যে বিপুল প্রত্যাশা, সবার সহযোগিতায় আমরা তা পূরণে সক্ষম হবো।
বাংলা একাডেমির সাতচল্লিশতম সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সভার কার্যক্রম পরিচালনা করেন একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব, কাজী রুমানা আহমেদ সোমা, ড. সাহেদ মন্তাজ, রোকসানা পারভীন স্মৃতি এবং সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।








