সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরি ও শেখ মামুন খালেদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক ও প্রকাশক আবু রুশদ এ আর এম শহীদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ১/১১–পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন ঘটনা ও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে আবু রুশদ দাবি করেন, সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়ার পর একই ব্যাটালিয়নে কর্মরত অবস্থায় শেখ মামুন খালেদের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। পরে বিএনপি সরকারের সময় মামুন খালেদ ডিজিএফআইতে দায়িত্ব পান এবং ২০০৭ সালের ১/১১–এর প্রেক্ষাপটে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পান।
তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় ডিজিএফআইয়ের বিভিন্ন তৎপরতায় তিনি হতবাক হন। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার সময় বিভিন্ন সংবেদনশীল প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে তাকে একাধিকবার তলব করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আবু রুশদ আরও বলেন, আব্দুল জলিল, শেখ সেলিম ও ওবায়দুল কাদেরকে ডিজিএফআইতে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও সিডি তার হাতে আসে এবং তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে ‘গায়েব’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল এম এ মতিন বীর প্রতীকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন ঘিরে নানা ‘ভয়াবহ পরিকল্পনা’ ও ‘অকল্পনীয় ঘটনা’ ঘটেছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী ছিল বলে তার ধারণা। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, তিন গোয়েন্দা প্রধান দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেলেও এই দুই কর্মকর্তা দেশে ছিলেন। তার ভাষায়, ‘এরা যেতে পারেননি নাকি ওরা (ভারত) নেয়নি?’


