২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মোট ৫২২টি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশীয় পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে তারা এই হিসাব প্রস্তুত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক দিন আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়েও দেশে মোট ২ হাজার ১৮৪টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব ঘটনার মধ্যে হত্যার ঘটনা ছিল ৬১টি। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ২৮টি। এছাড়া উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৯৫টি এবং উপাসনালয়ের জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ঘটনা ছিল ২১টি।
সংগঠনটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মোট ৬৪৫টি সহিংসতার ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টিতে সাম্প্রদায়িক উপাদান রয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয় বলে সরকার দাবি করেছে।
এই তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্রশ্ন তোলে, শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কি নতুন সংজ্ঞায় ‘সাম্প্রদায়িকতা’কে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে চান যে— কেবল মন্দির বা উপাসনালয়ের আঙিনায় সংঘটিত সহিংসতাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, আর সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য পরিসরে সংঘটিত ঘটনাগুলো সাম্প্রদায়িক নয়?
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতি, ধর্ম, গোত্র ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে এখনো বহু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্যের কারণে ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতা শুধু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে না, বরং এসব উসকানিমূলক বক্তব্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করছে, এই শঙ্কা ও উদ্বেগ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় হুমকি।







