ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার (এএমআর) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং অপর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা এএমআর-এর বিস্তারকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ বছর বয়সী ওলেকসান্ডার বেজভারখনি ছিলেন একজন গুরুতর রোগী, যাকে কিয়েভের ফিওফানিয়া হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার পেটে গভীর আঘাত ছিল, দুটি পা কেটে ফেলা হয়েছিল এবং নিতম্ব ছিঁড়ে গিয়েছিল। তার সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ায় তাকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
ফিওফানিয়া হাসপাতালের ডেপুটি চিফ ফিজিশিয়ান ড. আন্দ্রি স্ট্রোকানের মতে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮০ শতাংশ রোগীর সংক্রমণই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসা করার সময় এসব সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
যুদ্ধের কারণে রোগীদের একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা এএমআর স্ট্রেনের উপস্থিতি থাকায় রোগীরা অধিকতর সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েন। ডনিপ্রোতে মেকনিকভ হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান ড. ভলোদিমির ডুবিনা জানিয়েছেন, রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে তার ইউনিটে শয্যার সংখ্যা ১৬ থেকে বেড়ে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধী সংক্রমণ সাধারণত চিকিৎসা সুবিধা থেকেই উদ্ভূত হয়। যুদ্ধের সময় হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলেও এসব ওষুধের অতি ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াকে আরও প্রতিরোধী করে তুলছে।
বেজভারখনির মতো রোগীদের ক্ষেত্রে ডাক্তারদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ওষুধ ব্যবহার করতে হয়, যা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। এক বছরের বেশি সময় হাসপাতালে থেকে এবং ১০০টিরও বেশি অস্ত্রোপচারের পর বেজভারখনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
বিশ্বজুড়ে এএমআর একটি বড় সমস্যা। ২০২১ সালে প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ এই কারণে মারা যান। যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালে ৬৬,৭৩০টি গুরুতর অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়। ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।








