এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
প্রস্তাবিত বাজেটে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা, ফার্ম ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা। ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ শিরোনামে আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা অতিমারি এবং বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এর ধারাবাহিকতার মাঝেও আয়কর আহরণে আমাদের গড় প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশের বেশি। তা সত্ত্বেও, কর-জিডিপি এর অনুপাত বৃদ্ধি করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব আদায়ের এই চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্বের কোন বিকল্প নেই। একটি কল্যাণমুখী এবং জনবান্ধব আয়কর সংক্রান্ত পরিবর্তন এই উদ্দেশ্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যমান স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা, ফার্ম ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করছি। একই সাথে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা, ফার্ম ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের জন্য করধাপ সমন্বয়পূর্বক বিদ্যমান সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।’
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নীতি ও কর সহায়তা, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, সম্পদের পুনর্বণ্টণ ও বৈষম্য হ্রাস, মুদ্রাস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, দেশিয় শিল্পের সংরক্ষণ ও বিকাশ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে নীতি ও কর সহায়তা প্রদান এর লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাজেটে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, দেশের কর ব্যবস্থার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য ২০২৪-২৫ এর জন্য প্রস্তাবিত করহারকে ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য বহাল রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ভবিষ্যাপেক্ষ কর ব্যবস্থার সূচনা করা হবে।
এদিকে, বর্তমানে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার কোম্পানি করদাতা ছাড়া অন্য করদাতাদের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার কোম্পানি করদাতা ছাড়া অন্য করদাতাদের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম কর ৪ হাজার টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের বাইরের অন্যান্য এলাকার কোম্পানি করদাতা ছাড়া অন্য করদাতাদের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম কর ৩ হাজার টাকা। বাজেটে ন্যূনতম করের বিদ্যমান এই কাঠামোও অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেটে বিত্তশালী ব্যক্তি করদাতাদের থেকে বর্তমানে নীট সম্পদের ভিত্তিতে দেয়া আয়করের শতকরা হারে সারচার্জের বিধান রয়েছে। বর্তমানে নীট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রদেয় সারচার্জের হার শূন্য। নীট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং নীট পরিসম্পদের মূল্যমানের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ রয়েছে। এবারের বাজেটে সারচার্জের বিদ্যমান কাঠামোও অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।








