দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে কোন বিবেচনায় নৌকায় মনোনয়ন দেওয়া হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন: মানুষের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে, সেটাই আমরা বিবেচনায় দেখব, বিবেচনা করব। প্রতি ছয় মাস পর পর আমি কিন্তু সার্ভে করি। কারো পজিশন খারাপ হলে সরাসরি মুখের ওপর বলে দিই। আমরা প্রোপার সচেতন বলে নির্বাচনে জনগণের আস্থা পাই, ভোট পাই এবং নির্বাচনে জয়ী হই।
শুক্রবার গণভবনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগদানের ফলাফল সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: জনগণের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি, যারা সংসদ সদস্য আছেন তারা কতটুকু জনগণের জন্য কাজ করেছেন, জনগণের আস্থা, বিশ্বাস কতটুকু অর্জন করেছেন, আমরা সেটাকেই বিবেচনা নিই। সেটা বিবেচনায় নিই বলে আমরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি। আমাদের সংসদ সদস্য, মন্ত্রীরা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ না করত, তাহলে বাংলাদেশের এত পরিবর্তন হতো না।
তিনি আরও বলেন: কতগুলো দুর্যোগ এসেছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের কত নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে। এই করোনার সময় আমাদের অনেক নেতাকর্মী, অনেক সংসদ সদস্য মানুষের সেবা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: জনগণ সম্পৃক্ত ও দল সুসংগঠিত না হলে কোনো সমস্যা মোকাবিলা কঠিন হয়ে যায়। আমরা পারি শুধু একটাই কারণে– আমাদের সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল আছে, আমাদের কর্মীরা নিবেদিত প্রাণ। যখনই মানুষের জন্য ডাক দিয়েছি তারা ছুটে গেছে মানুষের কাছে।
সুষ্ঠ নির্বাচন প্রশ্নে বাইরের দেশের বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন: বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকারের সংগ্রাম আমরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমরা করেছি, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই দেশের জনগণ আমাদের বারবার ভোট দিয়েছে। আর একটানা আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই অর্থনৈতিক উন্নতিটা হয়েছে। আজ দেশের মানুষ যতটুকুই পাচ্ছে আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হচ্ছে। এখন এত প্রশ্ন আসে কেন সেটাই আমার কথা। তাহলে একটা দেশ যে এত দ্রুত উন্নতি করে ফেলছে সেটাই কি সবার মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে গেল। এখন কীভাবে এই উন্নতি নষ্ট করা যায় সেই প্রচেষ্টাই কিনা এ সন্দেহটা আমারও আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষে বুধবার দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
১৭-২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চ-পর্যায়ের ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া সংবর্ধনায় যোগ দেন। এছাড়া তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি সৌজন্য সাক্ষাত করেন এবং যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।







