আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল মিশরের গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম (জিইএম), যা আধুনিক যুগের এক সাংস্কৃতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে প্রথমবার সম্পূর্ণ রূপে প্রদর্শিত হচ্ছে ফারাও তুতানখামেনের সমাধি।
আজ (১ নভেম্বর) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ১২০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাদুঘরটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায় এক লাখ নিদর্শন স্থান পেয়েছে, যা প্রাক-রাজবংশীয় যুগ থেকে শুরু করে গ্রিক ও রোমান আমল পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার বছরের ইতিহাস তুলে ধরেছে।
জিইএম-এর প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে খ্যাতনামা তুতানখামেন নামের কিশোর ফারাও রাজার সমাধি, যা প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণভাবে একসঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে। সমাধির ভেতরে পাওয়া যায় প্রায় ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি নিদর্শন, যার মধ্যে রয়েছে তুতানখামেনের বিখ্যাত স্বর্ণমুখো মুখোশ, সিংহাসন, রথসহ আরও বহু ঐতিহাসিক বস্তু।
বিশাল এই স্থাপনার বাইরের অংশে খোদাই করা আছে প্রাচীন হায়ারোগ্লিফ বা চিত্রলিপি এবং আলাবাস্টার পাথরের স্বচ্ছ ত্রিভুজাকৃতি দেয়াল জাদুঘরটিকে পিরামিড আকৃতির প্রবেশপথে রূপ দিয়েছে। ভিতরে প্রবেশ করলে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন ১১ মিটার উচ্চ রামেসিস দ্বিতীয়-এর বিশাল ভাস্কর্য এবং ১৬ মিটার লম্বা ঝুলন্ত ওবেলিস্ক।
প্রায় ৫ লাখ বর্গমিটার (৭০টি ফুটবল মাঠের সমান) জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল জাদুঘরে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ পর্যটক আগমন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাদুঘরে তুতানখামেনের প্রদর্শনীর পাশাপাশি রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ বছর পুরনো খুফুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নৌকা, যা বিশ্বের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত কাঠের জাহাজগুলোর একটি।








