গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে ১৪ মাস পার হলেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। এমন বাস্তবতা তুলে ধরে ‘জাতীয় নাগরিক জোট’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে এই জোটের সূচনা হয়।
জোট নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোটাধিকারসহ জনগণের কল্যাণের বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকায় দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব আজ প্রশ্নবিদ্ধ। বিদেশি প্রভাব ও অস্বচ্ছ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে নাগরিক ঐক্য জরুরি হয়ে পড়েছে।
জোটের লক্ষ্য ও কর্মপন্থা
আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত নির্বাচনের সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ আয়োজনের দাবিতে গণচাপ সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক জোট।
তারা বলছে, জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠায় নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে মাঠে নামার আহ্বান জানানো হয়।
জনবান্ধব টেকসই সংস্কার
জোটের মতে, গত এক বছরে রাজনৈতিক দলের সংস্কার আলোচনায় থাকলেও আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত সংস্কার গুরুত্ব পায়নি।
তারা দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য টেকসই সংস্কারের দাবি জানায়, যাতে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
নিবর্তনমূলক কালো আইন বাতিল
নাগরিক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার রক্ষায় জোটের দাবি—
সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৪ বাতিল,দণ্ডবিধির ৭৭ ধারা বাতিল,অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিল,৫৪ ধারার অপব্যবহার রোধে সংস্কার এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কালা আইন প্রত্যাহার।
জোটের ঘোষণা, তারা ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এসব দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে কাজ করবে।
জোট দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
তাদের কাজ ও সম্পদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরপেক্ষ আচরণের নীতিমালা প্রকাশ করতে হবে।
জোটের প্রত্যেক প্রতিনিধি ৫ জন সহপ্রতিনিধি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
জোট প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন। মো. তারেক রহমান সাধারণ সম্পাদক আমজনতা দল, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন সভাপতি দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন, কুলসুম সাধনা মহল সিনিয়র সহ-সভাপতি আমজনতা দল, মো. আতিকুর রহমান (রাজা) সভাপতি বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, মাহবুব আলম সমন্বয়ক বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, সোনিয়া চৌধুরী সদস্য সচিব স্নিগ্ধ বাংলাদেশ, আল আমিন রাজু আহ্বায়ক জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট, আনোয়ার হোসেন রানা সভাপতি জাতীয় সমাজ পার্টি, তরিকুল ইসলাম ভূইয়া, জনতার অধিকার পার্টি (পিআরপি), মো. আল কাওছার মিয়াজী বাংলাদেশ দেশপ্রেমিক প্রজন্ম (বিজিপি), রাজু আহম্মদ খান চেয়ারম্যান গ্রীন পার্টি বাংলাদেশ, মাহবুব হোসাইন অধ্যাপক মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গিয়াস উদ্দিন খোকন বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ পরিষদ, ড. কবির জুয়েল প্রফেসর শাহ আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জুলাই যোদ্ধা ও চেয়ারম্যান আগামীর বাংলাদেশ, মিম আক্তার যাত্রাবাড়ী শহীদ পরিবার প্রতিনিধি, ইসরাত জাহান রেলি ডিএসএ ভিক্টিম নেটওয়ার্ক, আব্দুর রউফ সংগঠক শহীদ পরিবার জুলাই গণ অভ্যুত্থান।
জাতীয় নাগরিক জোটের আহ্বান, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হোন নাগরিকের শক্তিই রাষ্ট্রের ভিত্তি।








