থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা আবারও সহিংস রূপ নিয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর এক থাই সেনা নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড। দুই প্রতিবেশী দেশই একে অন্যের ওপর হামলা শুরুর অভিযোগ এনেছে।
আজ ৮ ডিসেম্বর সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, এক বিবৃতিতে থাই সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল উইন্থাই সুভারি জানান, স্থানীয় সময় ভোরে কাম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে ছোট অস্ত্র ও কার্ভড উইপন দিয়ে গুলি চালানো হয়। এতে উবন রাচাথানি প্রদেশে একজন সেনা নিহত এবং চারজন আহত হন। দুই ঘণ্টা পর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর থাই বাহিনী পাল্টা বিমান হামলা চালাতে বাধ্য হয়।
তবে কাম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের এই বক্তব্য অস্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, সোমবার ভোর ৫টায় প্রথম হামলাটি চালায় থাই সেনারা। তাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে থাই বাহিনীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
সোমবার নতুন হামলার পর কাম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, তারা কোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণে যায়নি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন সীমান্তে অবস্থানরত বাহিনীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, থাই বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘর্ষ উসকে দিয়ে যুদ্ধবিরতি ভাঙতে চাইছে। তিনি থাইল্যান্ডে মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া সাউথ ইস্ট এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে থাকা কাম্বোডিয়ান অ্যাথলেটদের নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বলেছেন।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে নতুন করে উভয় দেশে জনস্রোত তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ডের সেকেন্ড আর্মি রিজিয়ন জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাম্বোডিয়ার অডার মিনচে প্রদেশের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সীমান্তের কাছের গ্রামগুলো থেকে বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। পরিস্থিতির কারণে প্রদেশটিতে সোমবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসে পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এতে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ওই যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতা করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই বছরের অক্টোবরে কুয়ালালামপুরে দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত শান্তি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।








