পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই দিনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গণভোটও হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে থাইল্যান্ডে সংসদ নির্বাচন হয়। সে নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের চার বছরের মেয়াদে সংসদের নিম্নকক্ষে থাকার কথা থাকলেও রাজনৈতিক সংকটের কারণে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচন ডাকতে হয়।
আগাম নির্বাচনের পেছনের প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের মে মাসে প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ওই সময় কম্বোডিয়ার হামলায় এক থাই সেনা নিহত হন। পরের মাস জুনে পরিস্থিতি সামাল দিতে কম্বোডিয়ার সরকারপ্রধান হুন সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা। সেই ফোনালাপে তিনি হুন সেনকে ‘আংকেল’ সম্বোধন করেন এবং নিজ দেশের সেনাবাহিনী নিয়ে সমালোচনাও করেন। ফোনালাপটি ফাঁস হলে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর জেরে সিনাওয়াত্রার ফিউ থাই পার্টির প্রধান শরিক ভুমজাইথাই পার্টি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এতে সরকার কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির মধ্যে আগস্টে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রাকে নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে অযোগ্য ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সংসদের দ্বিতীয় বৃহৎ দল ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল ‘প্রোগ্রেসিভ পিপলস পার্টি’র সঙ্গে জোট গড়ে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে শর্ত ছিল—সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। সেই শর্ত অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৫ সালে সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে আজকের নির্বাচনের পথ তৈরি হয়।


