এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সাউথ কোরিয়ায় আট বছরের এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক শিক্ষক।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে সাউথ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় শহর ডেইজিওনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ঘটনার পর স্কুলটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুল গেটে ফুল ও স্টাফড পুতুল রেখে শোক প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় স্কুল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ছুরিকাঘাতে জর্জরিত অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির পাশে আহত অবস্থায় ওই নারী শিক্ষকও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন।
এই ঘটনায় সাউথ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট চোই সাং-মোক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্কুল আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত। এই ঘটনায় আমি ভুক্তভোগীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
ডেইজিওন শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, গত ৯ ডিসেম্বর বিষণ্ণতার কারণে ওই শিক্ষক ছয় মাসের ছুটির আবেদন করেছিলেন। তবে একজন ডাক্তার তাকে কাজের জন্য উপযুক্ত বলে মূল্যায়ন করার পর মাত্র ২০ দিন পরেই তিনি স্কুলে ফিরে আসেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ঘটনার কয়েকদিন আগে শিক্ষিকা হিংসাত্মক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, যার মধ্যে অন্য একজন শিক্ষককে মাথায় আঘাত করাও ছিল। এই ঘটনার পর শিক্ষা অফিসের দুই কর্মকর্তা স্কুলে গিয়েছিলেন তদন্ত করতে। সোমবার সন্ধ্যায় বাস চালক স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান যে শিশুটিকে সেদিন বাসে তুলতে আসেনি, তখনই তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রোপচার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তারা শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা করছিল, কিন্তু তিনি আত্মহত্যা করেন।
সাউথ কোরিয়া একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছুরিকাঘাতসহ বেশ কয়েকটি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যা জাতীয়ভাবে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।








