বৃষ্টি বলয় ‘গোধূলি’র কারণে সারাদেশের মতো শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকাতেও ঝরেছে বৃষ্টি! প্রায় চারমাস শুষ্ক থাকার পর এই বৃষ্টিপাত চা বাগানে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের শুষ্কতার পর হঠাৎ বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা গাছে নতুন পাতা ও কুঁড়ি দেখা দিয়েছে, বাগানগুলো আবারও সবুজ ও সতেজ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে শীতের শুরুতে বিভিন্ন বাগানে চা-গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু হয়। সাধারণত ছাঁটাইয়ের পর বাগানগুলোতে কিছুদিন রুক্ষ ও শুষ্ক পরিবেশ দেখা যায়।
নতুন কুঁড়ি ও পাতা গজানোর জন্য পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত প্রয়োজন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানে সেচের মাধ্যমে গাছে পানি সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় হঠাৎ আগাম বৃষ্টিপাত চা-বাগানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে চা-গাছের পাতায় জমে থাকা ধুলাবালি ধুয়ে গেছে এবং পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে সতেজ পরিবেশ। বৃষ্টির কারণে পাতাগুলো পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগান বিশেষজ্ঞরা।
ফিনলে টি এস্টেটের সিইও তাহসিন এ চৌধুরী জানান, এই অঞ্চলে ফিনলের চল্লিশ হাজার একর চা বাগানসহ সমগ্র চা বাগানের জন্য এই বৃষ্টিপাত আশীর্বাদ হয়েছে। অন্যান্য সকল বাগানও বৃষ্টির কারণে ভালো চা পাতা পাবে বলে আশা করছি।
এদিকে, শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহেও এ অঞ্চলে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা চা-বাগানসহ কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া, জেরিন, ফুলছড়া, এমআর খান, কালিঘাট এবং কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, পদ্মছড়া, আলীনগর, পাত্রখলা, ডানকান, মৃতিংগা ও চাম্পারাইসহ প্রতিটি বাগানে বৃষ্টির ছোঁয়ায় ছাঁটাই করা চা-গাছগুলো আবারও সতেজ হয়ে উঠছে।
চা- শ্রমিকরা পাতা সংগ্রহের প্রস্তুতিও শুরু করেছে। কোথাও শ্রমিকদের বাগান পরিচর্যার কাজ করতে দেখা গেছে, আবার কোথাও ঝুড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে দ্রুত কুঁড়ি বের হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চা–পাতা সংগ্রহ শুরু করা সম্ভব হবে। এতে চলতি মৌসুমে চা–উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
চা-বাগানসংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমের শুরুতেই এমন বৃষ্টি চা-উৎপাদনের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা। এতে এবারের মৌসুমে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দেশের চা-শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


