সম্প্রতি বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা ভিডিও বার্তা দিয়ে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
তিনি দেশের প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি অসহযোগিতার কথা বলেছেন, এমনকি কর দেয়া, অভিযুক্ত অপরাধীদের আদালতে হাজিরা দিতে নিষেধ করেছেন, কীভাবে দেশকে পঙ্গু করে একটা অকার্যকর দেশ তৈরি করা যায় তার রূপরেখা দিয়েছেন।

আফসোসের বিষয় হলো তার এই ১৩ মিনিটের ভিডিওতে একবার ও তিনি আগুনে পোড়া মানুষের কথা বলেননি, মায়ের কোলে পুড়ে যাওয়া ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুর কথা বলেননি, রেললাইনে উপরে ফেলে মানুষ হত্যার বিচার চাননি। তার বার্তার পুরোটা জুড়ে তার নিজের স্বার্থ এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান ছিল।
একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে চাইবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু দলটির প্রধান হিসেবে তিনি যে বিবেক বর্জিত ভাষণ দিয়েছেন তা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।
নিজ দলের নেতা কর্মীদের ফেলে রেখে একজন নেতা যখন বছরের পর বছর বিদেশে থেকে ভিডিও বার্তায় তৃণমূল রাজনীতির কথা বলেন, নতুন চিন্তা চেতনা ও আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলেন, তখন তার দলের নেতা কর্মীদের নিশ্চয়ই তার প্রতি বিশ্বাস, আস্থা ও ভালোবাসার জায়গায় চির ধরে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার মানসে বিদেশে বসে ক্রমাগত চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র।
এরা প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অশুভ প্রয়াস নিয়ে বিশাল অর্থব্যয়ে কিছু সাইবার সন্ত্রাসী ভাড়া করে গড়ে তুলেছে গুজব সিন্ডিকেট।
রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া ছবি দিয়ে অডিও-ভিডিও তৈরি করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারেক জিয়ার এ গুজব সিন্ডিকেট শুরুর দিকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশকে সাময়িক অস্থিতিশীল করতে পারলেও দেশপ্রেমিক জনগণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
নতুন রাজনীতি ও তৃণমূলের রাজনীতি তথা পরিবর্তনের রাজনীতির কথা বলতে গিয়ে বা সেই রাজনৈতিক দর্শন এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করতে গিয়ে যদি অহেতুক বিতর্ক আর মিথ্যা, গোয়েবলসীয় তথ্যে ভরপুর উদ্ভট সব অরাজনৈতিক কথা বা বক্তব্য দেন, জনগণকে গেলানোর চেষ্টা করেন বা সমাজ ও রাজনীতির ময়দানে নয়া নয়া বিতর্ক আর কূট-রাজনীতির চর্চা চালু করেন, তাহলে সেটা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বরং এধরনের মিথ্যা অসত্য তথ্যের উপরে তৈরি ভিডিও বার্তাগুলো যেকোনোভাবে দেশে প্রচার থেকে বিরত রাখা জরুরি। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের সুবিধা নিয়ে, বিদেশে বসে দেশি রাজনীতির যে চর্চা শুরু হয়েছে, সময় এসেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।
বিএনপি বেশ কয়েক বছর ধরেই নির্দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কয়েকটা বড় সমাবেশ করেছে। বড় বড় সমাবেশ করেও বিএনপি এর সুফল ঘরে তুলতে পারেনি। এর দায় কার? অহেতুক ভিডিও বার্তায় ঘৃণা না ছড়িয়ে, দলের দেশের কল্যাণে কথা বলুন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কথা না বলে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় তার কথা বলুন।
শুধু বড় সমাবেশ করলেই রাজনীতির ফসল ঘরে তোলা যায় না। বড় সমাবেশ করার অর্থ হচ্ছে জনসমর্থন যাচাই করা। বিএনপি যেমন বড় সমাবেশ করেছে, তেমনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমাবেশও কম বড় হয়নি।
সমাবেশের মাধ্যমে জনসমর্থন যাচাই করলে আওয়ামী লীগকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। বড় সমাবেশ করেই সরকারের পতন ঘটানো যাবে বিএনপির এই চিন্তাই ছিল ভুল। বিদেশে বসে দেশের রাজনীতি করা যায় না, মানুষকে উসকে দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের যে পায়তারা তারেক রহমান করছেন তার ফাঁদের এদেশের সাধারণ মানুষ কখনোই পা দেবে না।
এখন মানুষের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন নেই, মানুষ আর নেতার ডাকে রাস্তায় গিয়ে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে না। বিএনপি পরিবর্তন চাইলে, নিজেদের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ঘটাতে হবে, পালিয়ে থাকা বিদেশি নেতাকে প্রশ্ন করতে হবে।

১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি যেন এখন এক হতোদ্যম ন্যুব্জ রাজনৈতিক দল। বিএনপি রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবে এখন যে দুঃসময় অতিক্রম করছে অতীতে এত খারাপ সময় আর আসেনি।
দলটির সর্বোচ্চ নেতার সেখানে এই বিবেক বর্জিত, বিতর্কিত ভিডিও বার্তা, দেশেকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার যে পরিকল্পনা তার বিরুদ্ধে দলটির সাধারণ সমর্থকদেরই প্রশ্ন তুলতে হবে। তাদের আবেগ কাজে লাগিয়ে বিদেশে বসে কেউ তার উদ্দেশ্য কেন হাসিল করতে চায়, সেই প্রশ্ন করতে হবে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







