ছোট পর্দার দুই অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ-কে ঘিরে নাটকের শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রথম ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথৈ অভিযোগ করেন, একটি নাটকের শেষ দৃশ্য ধারণের সময় স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে তানজিন তিশা তাকে জোরে চড়-থাপ্পড় মারেন। তার দাবি, দৃশ্যের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আঘাত করা হয়েছে, যা ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণের শামিল।
এরপর বুধবার (৪ মার্চ) এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অথৈ আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, শুটিং সেটে আসার আগে তিশা গাঁজা সেবন করেছিলেন বলে তার ড্রাইভার দেখেছেন। অথৈর ভাষ্য, “কে কী খান সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। কিন্তু শুটিং সেটে এসে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা অন্যায়।” তিনি জানান, বিষয়টি অভিনয় শিল্পী সংঘকেও অবহিত করেছেন।
অন্যদিকে, গাঁজা সেবনের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নাটক ‘পুতুলের বিয়ে’-এর শুটিং সেট থেকে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এসময় সেটে উপস্থিত পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও প্রোডাকশনের কয়েকজন সদস্যও তার সঙ্গে ছিলেন।
লাইভে তিশা বলেন, শুটিং এখনও মানিকগঞ্জে চলছে এবং এক দিন ফাঁসিয়ে অথৈ শুটিং অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন। তার জন্য পুরো টিম ক্ষতিগ্রস্ত বলেও এসময় জানান তিশা।
গাঁজা সেবনের অভিযোগটি পুরোপুরিই ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের জন্য আমি অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেব। আইনের পাশাপাশি আমাদের সংগঠন- অভিনয় শিল্পী সংঘ ও ডিরেক্টরস গিল্ড আছে। তারাই বিষয়টির সঠিক বিচার করবে।”
চড় মারার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিশার বক্তব্য, এটি ছিল গল্পের প্রয়োজনেই করা একটি দৃশ্য। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কারণে কাউকে মারিনি। তাহলে তো প্রথম দিনেই সমস্যা হতো। সে পরিচালককে জানাতে পারত, সংগঠনেও অভিযোগ করতে পারত।”
এসময় নাটকটির নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু-ও তিশার সাথে সহমত জানান। রিংকু জানান, শুটিং সেটে তিশার বিরুদ্ধে ওঠা গাঁজা সেবনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
লাইভের শেষদিকে অথৈকে উদ্দেশ্য করে তানজিন তিশা বলেন,“আইন আছে। এক্টরস ইকুইটি আছে, ডিরেক্টরস গিল্ড আছে- আশা করি সুবিচারটা তারাই দিবে। সুতরাং আমার মনে হয়, সোশাল মিডিয়ায় এরকম কুৎসা রটানোর দরকার নাই। তুমি তোমার কাজ দিয়ে বড় হও, এরকম কুৎসা দিয়ে বড় হয়ো না।”







