রোম্যান্টিক ও গ্লামারস নির্ভর চরিত্রে অভিনয় করে আগেই নজর কেড়েছেন তানজিন তিশা। সেখান থেকে বেরিয়ে এই অভিনেত্রী অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মেকাপহীন চরিত্রেও নিজেকে দুর্দান্তভাবে মেলে ধরেছেন। ক’দিন আগে প্রকাশিত তিশার ‘নরসুন্দরী’ নাটকটি দেখে এমনটাই বলছেন দর্শক।
তাদের কথা, এই তানজিন তিশা যেন আগের চেয়ে আরও বহুগুণ পরিণত হয়েছেন। লাখ লাখ দর্শক মুগ্ধ হয়েছেন তিশাতে।
সাংবাদিক ও নাট্যকার আহমেদ তাওকীরের গল্পে ‘নরসুন্দরী’ নির্মাণ করেন রাফাত মজুমদার রিংকু। নাট্যকারের ভাষ্য, বরিশাল অঞ্চলের এক নারী নাপিতকে দেখে তিনি গল্পটি সাজাতে অনুপ্রাণিত হন। নাটকটি দেখে দর্শকরা বলছেন, একজন নারী নাপিতের চরিত্রে অভিনয় করে তিশা তার পূর্বের চ্যালেঞ্জ নির্ভর কাজগুলো ছাড়িয়ে গেছেন। আবার কেউ বলছেন, ভারতীয় সিরিয়ালের চেয়ে বাংলাদেশের একঘণ্টার নাটক ভালো!
প্রচারের পর দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়ায় তানজিন তিশা নিজেও আবেগ আপ্লুত হয়েছেন। মার্কিন মুলুক বসেও দর্শকের ভালোবাসা টের পাচ্ছেন।
নাটকে একজন নারী নাপিতের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল তানজিন তিশার। তিনি বলেন, শুটিংয়ের আগে একদিন রাতে কারওয়ান বাজারের একটি সেলুনে গিয়ে নাপিতরা কীভাবে চুল কাটে সেই ধারণা নিয়েছিলাম। নিজে প্রত্যক্ষ করেছি যাতে বেস্ট আউটপুট আসে। নাটকটি প্রচারের পর দর্শকদের এমন সাড়া পেয়ে যাচ্ছি এতে মনে হচ্ছে আমার প্রস্তুতি ও শুটিংয়ে যাবতীয় কষ্ট ও শ্রম স্বার্থক হয়েছে।
ইদানিং নারী প্রধান গল্পে বেশি দেখা যাচ্ছে তিশাকে। এর আগে ‘পুতুলের সংসার’ ও ‘রিক্সা গার্ল’ নামে দুটি নারী প্রধান নাটকে অনবদ্য অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তিশা বলেন, নারীপ্রধান কাজে দর্শকদের আগ্রহ তুলনামূলক কম থাকে। কারণ মানুষ রোম্যান্টিক-কমেডি গল্প দেখতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু নারী প্রধান কাজে অনেকের জীবন রিলেটেড থাকে। এ গল্প দেখে অনেকে জীবনে নতুন মনোবল ফিরে পায়।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিশা বলেন, নারীপ্রধান কাজ মানেই তানজিন তিশা, দর্শকরা এমনটা মনে করছেন। এতে আমি প্রাউড ফিল করি।
তিশা বলেন, আমি কাজের মাধ্যমে মানুষকে ব্যতিক্রমী কিছু দিতে পারছি। ‘নরসুন্দরী’ ইউটিউবে আসার পর শত শত মানুষের মন্তব্য আমাকে স্পর্শ করেছে। সমাজে নারীর পথচলা যে কতটা কঠিন হয় সেটা এসব নারী প্রধান কাজের মাধ্যমে আমি নিজেও বুঝতে পারি, দর্শকরা এসব কাজ দেখে বুঝতে পারেন, এতে নারীর প্রতি আমাদের সোসাইটির মানুষের সম্মান বাড়ছে। এতে আমি আরো ভালো করতে অনুপ্রাণিত হচ্ছি।








