বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা যুগ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এবার পঞ্চপাণ্ডবের আরও একজন বিদায় নিয়েছেন ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে। মুশফিকুর রহিমের অবসর ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন মাশরাফী থেকে শুরু করে কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া তামিম ইকবাল।
অনুভূতি প্রকাশ করে মাশরাফী লিখেছেন, ‘তোমার বিদায়ের ঘোষণায় এক লহমায় অনেককিছু ভেসে উঠল চোখে। এতবছরের একসঙ্গে পথচলা, মাঠের ভেতরে-বাইরে কতশত স্মৃতি!’
‘ওয়ানডেতে তোমার রেকর্ডই তোমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে অনেককিছুর। তোমার ব্যাটের দ্যুতিতে কত আলোর দিন এসেছে দেশের ক্রিকেটে। তবে রেকর্ড বইয়ে লেখা থাকবে না, কতটা নিবেদন আর নিষ্ঠায় তুমি ক্যারিয়ার গড়েছিলে, কতটা ঘামের স্রোত পেরিয়ে সাফল্যের তীর ছুঁয়েছিলে। তোমার পরিশ্রম, প্রতিজ্ঞা আর ত্যাগের গল্প বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রজন্মের পর প্রজন্মে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আশা করি, সাদা পোশাকের বাকি অধ্যায়টুকু রঙিন করে তুলবে। তোমার ব্যাটে অভিজাত সংস্করণে দেশের ক্রিকেট সমৃদ্ধ হবে আরও…।’
মুশফিক জাতীয় দলে ১৬ বছর সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন পঞ্চপাণ্ডবের আরেক সদস্য তামিম ইকবালকে। ভিডিও বার্তার শুরুতে তামিম বলেছেন, ‘আজকে এমনই একটা দিন, সাধারণত কেউ যদি কোনো সংস্করণ থেকে অবসর নেয়, সবাই স্ট্যাটাস দেয়, তাদের অনুভূতিটা বোঝায়। কিন্তু এমন একজন ব্যক্তি আজ অবসর নিলেন, যার সঙ্গে আমার ২০-২৫ বছরের অভিযাত্রা। একটা স্ট্যাটাসে আমি আসলে বোঝাতে পারতাম না, তার প্রতি আমার অনুভূতি কেমন এবং এখন আমার আসলে কেমন মনে হচ্ছে।’
‘আপনারা সবাই জানেন মুশফিক কিছুক্ষণ আগে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছে। মুশফিককে আমি এতটুকুই বলতে চাই যে দোস্ত, তোর সঙ্গে আমার খেলার শুরু অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে এবং আমি তোকে ধাপে ধাপে বেড়ে উঠতে দেখেছি। তোকে দেখেছি যে সাধারণ ব্যাটসম্যান থেকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছিস।’
‘অনেকেরই তার কঠোর পরিশ্রমটা দেখার সুযোগ হয়নি। আমি দেখেছি যে একটি ছেলে কত কষ্ট করতে পারে। একটা মানুষের পক্ষে যতটা কষ্ট করা সম্ভব, আমার কাছে মনে হয় যে সে সবই করেছে, এখনো করে যায়। আমরা এটা নিয়ে অনেক সময় হাসাহাসি করি যে একটা মানুষ এত কষ্ট করে কেন। কিন্তু তার নিবেদন, খেলার প্রতি ভালোবাসা, এটা বিশাল। এটা আমি কথায় কোনদিন কাউকে বোঝাতে পারব না। খেলা ছেড়ে দেওয়া ওর জন্য কত কষ্টকর, আমি যেহেতু ওর কাছের একজন বন্ধু, আমি বুঝতে পারি যে এটা তার জন্য খুব খুব কঠিন।’
‘বন্ধু, তুমি যা কিছুই অর্জন করেছ, বাংলাদেশের জন্য অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে যা করেছ, এসব বছরের পর বছর মনে রাখা হবে। এখনো তুই একটি সংস্করণে খেলবি-টেস্ট সংস্করণ। আমি সত্যিই আশা করি ও প্রার্থনা করি, তুই ভালো কর। অন্তত ১০০টি টেস্ট খেল, যেটা বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার খেলে নাই। আমি এটা আশা করব, ১০০তম টেস্ট অবশ্যই খেলবি। খুব আবেগপ্রবণ লাগছে, যেটা আমি টের পাচ্ছি, তুইও পাচ্ছিস। বাংলাদেশ তোকে মিস করবে। যা কিছুই করেছিস তুই দেশের জন্য, অনেক অনেক বছর সেসব মনে রাখা হবে… ধন্যবাদ, সবকিছুর জন্য অনেক ধন্যবাদ মুশফিক।’








