বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের পাশাপাশি নাম সরিয়ে নিয়েছেন আরও ১৪ জন। পরে তামিম বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই নির্বাচন কালো দাগ হয়ে থাকবে।
ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টিং ক্লাবের কাউন্সিলর হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তামিম। সভাপতি পদে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন। সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে নাম প্রত্যাহার করে নিলেন তারকা সাবেক বাঁহাতি ওপেনার।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়। সকাল সোয়া ১০টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি নির্বাচন কমিশন অফিসে এসে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তামিম। তিনিসহ মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেন, ‘আপনারা বলেন ফিক্সিং বন্ধ করেন ক্রিকেটে। আগে নির্বাচনের ফিক্সিং বন্ধ করেন, এরপর ক্রিকেটের ফিক্সিং বন্ধ কইরেন। এটা কোন নির্বাচন ছিল না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই নির্বাচন কালো দাগ হয়ে থাকবে। বিসিবি নির্বাচন ঘিরে যা ইচ্ছা তা-ই করা হচ্ছে। এটা সুন্দর প্রক্রিয়া হতে পারে না। যারা বোর্ডে আছেন তারা চাইলে এভাবে নির্বাচন করতে পারেন, জিততেও পারেন। তবে আজকে ক্রিকেট শতভাগ হেরে গেছে।’
‘আপনারা জানেন যে, আমরা আজকে আমাদের নমিনেশনটা প্রত্যাহার করেছি। আমিসহ প্রায় ১৪-১৫ জনের মতো প্রত্যাহার করেছি। কারণটা খুবই পরিষ্কার। এখানে আমার কাছে মনে হয় না যে আমাকে খুব ডিটেইলসে বা ব্যাখ্যা করে আপনাদেরকে কোনকিছু বলার আছে। আমি শুরু থেকেই একটা কথা বলে আসছি যে, ইলেকশনটা কোনদিকে যাচ্ছে বা কীভাবে হচ্ছে, এ জিনিস নিয়ে আপনারা সবাই এখন পরিষ্কার।’
‘যখন যেমন মনে হচ্ছে, যখন যা মনে হচ্ছে, তখন তা করা হচ্ছে। এটা আসলে নির্বাচন না। ক্রিকেটের সঙ্গে এ জিনিসটা কোনদিক থেকেই মানায় না। আমি নিশ্চিত যখন ইসি তালিকা দেবে যে আজকে কারা কারা প্রত্যাহার করেছেন, তাদের নামগুলা আপনারা দেখলেই বুঝতে পারবেন যে সবাই তাদের জায়গা থেকে হেভিওয়েট, তাদের ভোটব্যাংকও খুব শক্ত। এটা হল আমাদের একটা প্রতিবাদ।’
‘এখান থেকে এসে এই নোংরামির অংশ আমরা থাকতে পারবো না। এখানে ধরেন বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন সময় অনেক ধরনের কথা বলা হয়েছে, বাট এন্ড অফ দ্য ডে, আমার কাছে মনে হয় যে এই নোংরামির সঙ্গে আমরা কোনদিক থেকে কোনভাবেই পার্ট রাখতে পারবো না।’
আগামী ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুসারে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে হয়ে থাকে। জেলা ও বিভাগ থেকে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হন নিজ নিজ বিভাগের কাউন্সিলরদের ভোটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকে দুজন করে এবং বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর থেকে একজন করে পরিচালক হবেন। এই ক্যাটাগরিতে মোট কাউন্সিলর ৭১ জন।
ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন ৭৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা নিয়ে গঠিত তৃতীয় ক্যাটাগরির ৪৫ জন কাউন্সিলরের ভোটে পরিচালক হবেন একজন। পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষে ২৫ পরিচালকের ভোটে হবে সভাপতি নির্বাচন।








