চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • স্বাস্থ্য
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

তাজউদ্দিন আহমেদের চিঠিতে ছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জন্মসূত্র

রিয়াজুল ইসলাম শুভরিয়াজুল ইসলাম শুভ
৫:০৭ অপরাহ্ন ১৬, ডিসেম্বর ২০২৩
ফুটবল, স্পোর্টস
A A

রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। দেশের মানুষ আজ বিজয়ের ৫২ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। রণাঙ্গনে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের বীরত্ব গাঁথার উপর দাঁড়িয়ে দেশের খেলাধুলা। পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দলের জন্ম দিয়েছিল রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশ। ইতিহাসের পাতায় যাদের নাম হয়েছে চিরস্মরণীয়- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে মারাত্মক মারণাস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ একাত্তর ঘুমন্ত জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বাঙালি নিধন যজ্ঞ। এ থেকে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষরাও বাদ যাননি। ক্রীড়া সংগঠক মুশতাক আহমেদকে হত্যা করা হয়। পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েল। আজাদ বয়েজ ক্লাবের হয়ে খেলা সাড়া জাগানো ওপেনার জুয়েল মুক্তিযুদ্ধে অংশ দেন। পাকিস্তানি সেনারা তাকে আটকের পর হত্যা করে।

বাঙালি নিধনের মাঝে পাকিস্তান সরকার চেয়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট চালু রাখতে। বহির্বিশ্বকে বোঝাতে চেয়েছিল ঢাকার অবস্থা স্বাভাবিক। গণহত্যাসহ নানা অপরাধ ঢাকতেই ছিল তাদের এমন পরিকল্পনা। তবে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের লক্ষ্য ছিল, খেলোয়াড়দের নিয়ে ভারতে নিয়ে আসার, যাতে খেলার আয়োজন না হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের জুন মাসে গঠিত হয় কালজয়ী স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

মহান বিজয় দিবসে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা তানভীর মাজহার তান্না। যুদ্ধকালীন ফুটবল দল গঠন নিয়ে দিলেন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক এক তথ্য।

নানা চরাই উতরাই পেরিয়ে যুদ্ধের মাঝে ভারতে যাওয়ার পর আগরতলায় পৌঁছান তান্না। পরে তিনি বালুরঘাটে যান। সেখানেই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি পান। সেই চিঠিই ছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জন্মসূত্র।

Reneta

‘একদিন দেখি জাকারিয়া পিন্টু (স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক) ভাই এসে হাজির। এসে আমাকে বলেন এই যে চিঠি , তোমাকে যেতে হবে। তাজউদ্দিন সাহেবের চিঠি। বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি বানিয়েছি। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, সব টিমের খেলোয়াড়রা চলে আসুক এটাই আমরা চাচ্ছি।’

‘প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেবের চিঠিতেই উল্লেখ ছিল, আমি দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো। সরকার থেকেই আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।’

‘আমি তো কলকাতায় ছিলাম না। তাই জানতাম না কীভাবে বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি গঠিত হয়েছিল। সংগঠনটির প্রথম সভাপতি ছিলেন আশরাফ আলী চৌধুরী। উনি ঢাকার এমপি ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন লুৎফর রহমান। শাফায়েত জামিলের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কলকাতা গেলাম। যেয়ে দেখি ২০-৩০ জন খেলোয়াড় ছিল। আমি সবাইকেই চিনি।’

যুদ্ধকালীন অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সবাই হয়ে পড়েছিলেন বিচ্ছিন্ন। জীবন বাঁচাতে সবাই দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছিলেন। এমন বিপদসংকুল পরিস্থিতির মাঝে ফুটবলারদের সবাই কীভাবে একত্রিত হয়েছিলেন, সেই ইতিহাসটাও জানালেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার।

‘বাংলাদেশ সরকারই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সব ফুটবলারকে ভারতে আসার ঘোষণা দিয়েছিল। বেতারের মাধ্যমেই খেলোয়াড়দের বলেছিল, আপনারা চলে আসেন। প্রতিদিন ছোট করে একটা বিবৃতি দিতো। খেলোয়াড়রা যারা চলে এসেছিল। সাতারু অরূপ নন্দীও চলে এসেছিল। আমরা বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতির অধীনে ছিলাম।’

‘আমাদের দারুণ একটা স্পোর্টসম্যান ছিল। নাম ছিল মিরাজ। ওকে মেরে ফেললো পাকিস্তানি আর্মিরা। সে তখন পাকিস্তানের এক নম্বর পোলভল্টার ছিল। অধিকাংশ খেলোয়াড় চলে আসে। বর্ডারের ওইদিকে চলে আসে, আগরতলা চলে আসে।’

অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পর স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ২৫ জুলাই নদীয়া জেলায় কৃষ্ণনগর স্টেডিয়ামে কৃষ্ণনগর একাদশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে। ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধকালীন ফুটবল দল মাঠে নামার আগের সেই অনুভূতির কথা বলেন তানভীর মাজহার তান্না।

‘উত্তেজনার মাত্রা মারাত্মক উঁচুতে ছিল। খেলোয়াড়দের তো আরও বেশি ছিল। ২০ হাজার লোক হাজির। এরকম বিশাল সংখ্যক দর্শক আসবে, ভাবতে পারিনি। কোনো একটা জায়গা খালি ছিল না। উল্টো শুরুর একাদশ সাজানো নিয়ে ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমার হাতে তো সব ভালো ভালো খেলোয়াড়। স্ট্রাইকিংয়ে আমার শাহজাহান ভাই, সালাউদ্দিন, নওশের, এনায়েত, তসলিম ছিল। ফ্রস্ট আর মিডফিল্ড সাজাতে অনেক ঝামেলা হয়েছিল। আশরাফকে পরে ডিফেন্সে নিলাম। আসলে আশরাফ ফরোয়ার্ড ছিল। তখনকার দিনে পাঁচটা ফরোয়ার্ড খেলতো। ইনসাইড ফরোয়ার্ড, রাইট ইনসাইড ফরোয়ার্ড, লেফট উইং, রাইট উইং আর স্ট্রাইকার। শুরুর একাদশ বানানো আসলেই কঠিন ছিল।’

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভীর মাজহার তান্না।

‘বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে যখন তারা দৌড়াল পুরা মাঠ, দর্শকদের যে পরিমাণ উল্লাস সেটা অবিশ্বাস্য ছিল। এটা আমরা জীবনেও ভুলতে পারবো না। আমরা সবাই কাঁদছিলাম। আসলে কেউ জানতাম না, কবে দেশে ফেরত আসব। পরিবারের অবস্থা ভালো থাকলেও দেশের বাইরে পকেটে টাকা-পয়সা তেমন ছিল না। ভিক্ষুকের মতো অবস্থায় ছিলাম। বন্ধুবান্ধব না থাকলে, ফুটবল না থাকলে দেশের বাইরে টিকে থাকাটা অসম্ভব ছিল। ২০ টাকা করে সবাইকে হাত খরচের জন্য দিতো। আমি অবশ্য নিতাম না। টাকাটা সালাউদ্দিনকে দিয়ে দিতাম।’

‘ভারতের মাটিতে ১৭টা ম্যাচ খেলেছি। প্রথম ম্যাচটা ইন্টারেস্টিং ছিল। কারণ আমরা বুঝি নাই এতো লোক হবে। স্টেডিয়াম পরিপূর্ণ, পাশের বাড়ির ছাঁদ ভরে গিয়েছিল । মাঠে ঢুকে দেখলাম একটা সুবিধাজনক অবস্থা আমাদের জন্য হয়ে গেছে। আমরা নিজেরা আলোচনা করে আয়োজকদের বললাম, পতাকা উড়াও। পতাকা না উড়ালে আমরা খেলবো না। এত লোক হয়ে যাওয়ায় ওরা চাপে পড়ে যায়। পরে নদীয়ার জেলা প্রশাসক এসে নিজেই সাহস নিয়ে বললেন আপনারা এটা করেন। তারপর ফুটবলাররা জাতীয় পতাকা নিয়ে সারা মাঠ ঘুরল। আমরা জাতীয় সঙ্গীত গাইলাম, তারপর খেলা শুরু হল।’

বিদেশের মাঠে বাংলাদেশ তখনো স্বীকৃতি পায়নি। তাই এমন ম্যাচ আয়োজনের কারণে ফিফাতে পাকিস্তান অভিযোগ জানাল। ফিফা আবার অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে বিষয়টি অবহিত করে। অফিসিয়াল একটি দল নামানোয় অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন নদীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগী পদ সাসপেন্ড করে দিল। জেলা প্রশাসককে ভারত সরকার সাসপেন্ড করেছিল। যদিও পরে চাকরি ফিরে পেয়েছিলেন।

এ ঘটনার পর নাম পরিবর্তন করে সবাই খেলা শুরু করে বলেই জানালেন তান্না। বললেন, ‘মোহনবাগান খেলেছিল গোষ্টপাল এলেভেন নামে। তিনি ছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রথম অধিনায়ক। সেই খেলায় উনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন।’

‘একটা দল নাম পাল্টে হয়ে যায় বোম্বে ইলেভেন। আমাদের বিপক্ষে খেলেছিলেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার নবাব মনসুর আলী খান পতৌদি। তিনি বোম্বে দলের অধিনায়ক ছিলেন। ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হলেও ফুটবলও খেলতেন। খুব ভালো খেলতেন। আমরা আসলে তাকে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সিনেমা জগতের অনেক তারকারা সেদিন উপস্থিত ছিল। দেব আনন্দ, দিলীপ কুমার, সায়রা বানু, জনি ওয়াকার, শর্মিলা ঠাকুর, তখনকার সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অনেকেই ছিলেন।’

ট্যাগ: তাজউদ্দিন আহমেদতান্নালিড স্পোর্টসস্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

‘স্পিরিট অব আবদুস সালাম’ পুরস্কার পেলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মাহবুবুল আলম

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

প্রথমবার রাজধানীতে ‘আমাদের পিঠা পার্বন ২০২৬ উৎসব’

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

হেলমেট না পরায় যৌথবাহিনীর মারপিটে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ৫ সেটের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচ

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, মনে করেন ৪৭ শতাংশ মানুষ: জরিপ

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT