ভালো শুরুর পর মিডলঅর্ডারের ধসে পথ হারানো বাংলাদেশকে দেড়শর কাছে নিয়েছেন আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানের লড়াকু পুঁজি পেয়েছে টাইগাররা।
টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের বছরসেরা ওপেনিং জুটি গড়ে সকালটায় ভালো এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের ৪৩ রানের জুটি ভাঙার পর হঠাৎ ব্যাটিংয়ে নামে ধস।
হোবার্টের আকাশ মেঘলা। ইনিংসের মাঝে বৃষ্টির কারণে মিনিট সাতেক বন্ধ ছিল খেলাও। মাঠ ভারি থাকায় বল সহজে গড়াচ্ছে না। পেসাররা পাচ্ছেন উইকেট থেকে বাড়তি সুবিধা। বল হাতে বাংলাদেশের বোলাররা জ্বলে উঠলে বোর্ডে ওঠা রান জয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। ফিল্ডারদেরও করতে হবে ভালো কিছু।
সোমবার টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে টাইগাররা। ফন মিকেরেনের করা ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে উড়িয়ে মারতে যেয়ে ১৪ বলে ২ চারে ১৪ রান করে ফেরেন সৌম্য। মিড উইকেটে ডে লেডের হাতে ধরা পড়েন।
পরের ওভারে আউট হন ২০ বলে ৪ চারে ২৫ রান করা শান্ত। টিম প্রিঙ্গলের বলে ফন বিকের তালুবন্দি হন।
সৌম্য-শান্তর বছরসেরা জুটির আগে ওপেনিংয়ে এবছর সর্বোচ্চ ৩৭ রানের জুটি এনেছিল টাইগাররা, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হারারেতে জুটিতে ছিলেন লিটন দাস ও মুনিম শাহরিয়ার।
সৌম্য-শান্তর ৪৩ রানের জুটি ভাঙার পর হঠাৎ অমানিশা। ব্যাটিংয়ে ধস। এলোমেলো হয়ে পড়া লাল-সবুজের দল টপাটপ হারিয়ে বসে ৫ উইকেট, ৩৩ রানের মধ্যে।
তিনে নামা লিটন দাসের উপর বাড়তি প্রত্যাশা ছিল। তিনি এদফা ব্যর্থ। ১১ বলে ৯ রান করে লোগান ফন বিকের বলে চিপ শটে মিডঅফে কুপারের হাতে সহজ ক্যাচ হয়েছেন।
সাকিব আল হাসানও হয়েছেন ব্যর্থ। অধিনায়ক ৯ বলে ৭ রান করে শারিজ আহমাদের বলে স্লগ সুইপ খেলে সীমানার কাছে ডে লেডের দারুণ ক্যাচে মাঠ ছাড়েন।
বিনা উইকেটে ৪৩ থেকে চোখের পলকের বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৬৩ রান।
আফিফ হোসেন ক্রিজে এসে শারিজের বলে সুইপ শটে মারেন ছক্কা। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা ৭ মিনিটের জন্য বন্ধ ছিল।
বৃষ্টির পরেও চলে উইকেট পতনের ধারাবাহিকতা। ৫ বলে মাত্র ৩ রান করে পল ফন মিকেরেনের বলে বোল্ড হয়েছেন ইয়াসির আলী।
বিপর্যয়ের পর নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন আফিফ। এরমাঝে ব্যক্তিগত ২৮ রানে আফিফের ক্যাচ নিতে পারেননি টিম প্রিঙ্গল। বড় বিপদ থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পায়। ডে লেডের বলে ১৮ বলে ১৩ রান করে সোহান আউট হলে জুটি ভাঙে।
দারুণ খেলতে থাকা আফিফ ২৭ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তাসকিন রানের খাতা না খুলে ক্ল্যাসেনের হাতে ধরা পড়েন।
শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেন ১২ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২০ রানের অপরাজিত ক্যামিও ইনিংস খেলায় বাংলাদেশ লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে।
ডাচদের পক্ষে পল ফন মিকেরেন ৪ ওভারে ২১ ও বাস ডে লেডে ৩ ওভারে ২৯ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট নেন।








