ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র জ্বালানি তেল সংকটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি চক্র। সংকটের সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খাইরুল ইসলাম তিনি ছদ্মবেশে চালাচ্ছেন অভিযান।
জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন প্রায় এক লাখ লিটার পেট্রোল এবং ৫০ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। এই ঘাটতির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছে এবং পরে খোলাবাজারে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। উত্তর হরিহরপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবুল ফজল বলেন, দুই লিটার পেট্রোল এখন সোনার হরিণের মতো। স্কুলে যাওয়ার জন্য দুদিন ধরে পাম্পে ঘুরে তেল পেয়েছি। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ী আব্বাস আলীও।
এ পরিস্থিতিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (২২ মার্চ) বিকালে সদর উপজেলার ফারাবাড়ি এলাকায় ছদ্মবেশে অভিযান চালান ইউএনও খাইরুল ইসলাম। খোলাবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে এক বিক্রেতাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ইউএনও জানান, সিন্ডিকেট ভাঙা না পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান চলবে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, কালোবাজারি ও মজুদদারদের দমনে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে এবং জনস্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, জগন্নাথপুর এলাকার হানিফ ফিলিং স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পাম্প মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার দাবিতে তারা জেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আলী জানান, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
এ ঘটনায় সদর থানার ওসি মোঃ মনির হোসেন জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংকটের কারণ নিয়ে ভিন্নমত
পাম্প মালিকদের দাবি, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ পাওয়ায় চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে অনেকের মতে, সংকটের বড় কারণ নৈতিকতার অভাব। সুরমা ফিলিং স্টেশনের মালিক মোস্তাক আলী বলেন, অনেকে বারবার ট্যাঙ্ক ভরে তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছে এবং পরে চড়া দামে বিক্রি করছে। শুধু প্রশাসনের পক্ষে এটি ঠেকানো কঠিন, যদি না মানুষের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হয়।
জ্বালানি সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির দ্বিমুখী চাপে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও জনরোষ তৈরি হয়েছে।








