সিলেট থেকে: শহরের খানিকটা বাইরে লাক্কাতুরায় চা বাগান বেষ্টিত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ভেন্যুর চারপাশেই প্রচুর খালি জায়গা, নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়েছে লোহার রড দিয়ে বানানো বেষ্টনি। সেই সুযোগ ব্যবহার করে কেউ কেউ অবৈধভাবে মাঠে থাকা দর্শকদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করছেন। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সামনেই স্টেডিয়ামের ভেতরের দর্শকরা বেষ্টনির বাইরের বিক্রেতাদের কাছে থেকে তামাকজাত পণ্য কিনছেন।
টিকিটের নিয়ম অনুযায়ী কোন দর্শকই স্টেডিয়ামে তামাকজাত পণ্যসহ বেশকিছু জিনিস নিয়ে প্রবেশ এবং ব্যবহার করতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও স্টেডিয়ামের ভেতরে দর্শকদের তামাকজাত পণ্যসহ দেখা গেছে।
স্টেডিয়ামের ক্লাব হাউজ ও পূর্ব গ্যালারির পাশে বিশাল খালি জায়গা। লোহার রড দিয়ে বানানো বেষ্টনি দেয়া আছে। বেষ্টনির বাইরে থেকে লম্বা সিরিয়ালে অনেককেই পণ্য বিক্রি করছেন। মাঠে থাকা দর্শকরাও তাদের থেকে কিনে নিচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের সামনেই এমন বেচাকেনা চলছে হরদম। প্রশ্ন জেগেছে ভেন্যুর নিরাপত্তা বিষয়েও। তামাক পণ্যের পাশাপাশি অন্যকোন নিষিদ্ধ জিনিস বা বিস্ফোরক দ্রব্যও এভাবে মাঠে ঢুকে গেলে বড় ঝুঁকির প্রসঙ্গ থাকেই। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের, তারা অবশ্য বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইলেন না। তাদের ভাষ্যে, সদস্য সংখ্যা কম বলেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরে ভেন্যুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিলেট বিভাগীয় পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. তারেক আহমেদের সঙ্গে কথা হয় চ্যানেল আই অনলাইনের। তিনি জানালেন, বেষ্টনির বাইরে থেকে তামাক পণ্য বিক্রি করার কারণে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুতই বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।

তারেক আহমেদ বললেন, ‘আপনার সংবাদটা আমরা জানলাম। আমরা তাৎক্ষণিক আমাদের পুলিশের যে অফিসাররা আছে তাদের পাঠাচ্ছি। যারা বিক্রি করছে, হ্যাঁ, তাদেরকে তো আমরা, ওই পাশ তো হচ্ছে রেলিংয়ের বাইরে, আমরা চেষ্টা করব যে তারা যেন বিক্রি করতে না পারে, তাদের মালামালগুলো যদি জব্দ করা যায় ভেতর থেকে, সেটা চেষ্টা করছি। মানে যেটা করণীয়, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা সেটা করছি।’
দর্শকের বেশি উপস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা কম থাকায় এমন হচ্ছে, বললেন তিনি। বলেছেন, ‘দর্শকের সংখ্যা এতবেশি, যারা খেলা দেখতে আসছে তারা আবার এক্সিট হবে, এজন্য হয়তো আমাদের পুলিশ তো এখানে কিছু সংখ্যক আছে, দুই-চারজন বোধহয় আছে। আপনি দেখেন, আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তবে অন্তত ১৫-২০ মিনিট সরেজমিনে দাঁড়িয়ে থেকেও কার্যত কিছু দেখা গেল না পদক্ষেপের। তাতে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে নিরাপত্তা বিষয়ে।
চলমান বিপিএলে প্রথম দুইপর্বই গড়াচ্ছে সিলেটে। প্রথমে ২ এবং পরে ৪ জানুয়ারি সিলেটপর্বের খেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল। ৫ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত খেলা গড়ানোর কথা ছিল চট্টগ্রামে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটেই সরিয়ে আনা হয়েছে ম্যাচগুলো। দ্বিতীয় দফায় ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা দিতে অপরাগতা দেখিয়েছিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।

নির্বাচন কেন্দ্র করে পুলিশের ব্যস্ততা বাড়ায় বিসিবিকে চিঠি দিয়েছিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। সেখানে বলা হয়, যেন সিলেটে দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচগুলো অন্যভেন্যুতে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে বিষয়টির সমাধান হয় দ্রুতই। নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে ভেন্যু থেকে কমানো হয়েছে পুলিশ সদস্য সংখ্যা। যে সংখ্যক পুলিশ সদস্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে একই সংখ্যক আনসার মোতায়েন করার কথা রয়েছে ভেন্যুতে। সোমবার দিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচের বিরতিতে ভেন্যুর চারপাশ ঘুরে দেখা যায় পুলিশের সংখ্যা ঠিকই কমেছে, শুধু দেখা মেলেনি সেই সংখ্যক আনসার সদস্যদের দায়িত্বে আসা।








