সদ্য প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-কে স্মরণ করে হৃদয়বিদারক একটি পোস্ট দিয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জী। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধুকে হারানোর শোক, আক্ষেপ আর ক্ষোভ- সব মিলিয়ে তার এই পোস্ট ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে স্বস্তিকা লিখেছেন, স্মৃতি ভুলে থাকতে চাইলেও প্রযুক্তি বারবার তা মনে করিয়ে দেয়। একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও তা আর সম্ভব হলো না- এই আক্ষেপ বারবার ফিরে এসেছে তার কথায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও রাহুলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
পরিকল্পনা ছিল, শুটিং থেকে ফিরে দেখা করবেন, আড্ডা দেবেন, নতুন কাজ ও জীবন নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না।
পোস্টে স্বস্তিকা তুলে ধরেন তাদের সম্পর্কের ব্যক্তিগত দিকও। রাহুলের ফোনে ‘গজগজ’ করা কথাগুলোই তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল বলে জানান তিনি। ব্যস্ততার কারণে বারবার দেখা করার পরিকল্পনা পিছিয়ে গেলেও এবার তা প্রায় চূড়ান্ত ছিল- কিন্তু ভাগ্য তা হতে দিল না।
পোস্টে আরও লিখেছেন, রাহুলের চলে যাওয়া তাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জুগিয়েছে। কাজ থাক বা না থাক, নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথাও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।
এ বিষয়ে স্বস্তিকার ভাষ্য,“আজকাল সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ভাই, তুই একটা সোজা শিরদাঁড়া নিয়ে মহাপ্রস্থানে গেলি এটাই শিক্ষনীয়, বিষ্ময়করও বটে। লোকে একটা আস্ত মেরুদণ্ড নিয়ে হাঁটতে চলতে পারছেনা, তুই কিনা সগ্গে চলে গেলি! তোর মৃত্যু অনেক কিছু শিখিয়ে গেল, জীবনের কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহস যোগাল। কাজ পাই, না পাই, সেগুলোতে অনড় থাকব, থাকবই।”
রাহুলের মৃত্যু নিয়ে শিল্পীজগতের বাস্তবতাও সামনে এনেছেন স্বস্তিকা। তার ভাষায়, এই ইন্ডাস্ট্রি নির্মম- এখানে কেউ কারও দায় নেয় না। বরং মৃত্যুর পরেও দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যায়।
কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বস্তিকা বলেন,“অরুণোদয়- এইভাবে অস্ত না গেলেও পারতিস। আহা গো। যার গেল তার গেল। বাবা সর্বক্ষণ বলত, আমাদের প্রফেশন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি রুথলেস। কেউ কারুর নয়, কারুর দায় নেই, কিছু হলে কেউ দায়িত্ব নেবে না, নিজেরটা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। তোর চলে যাওয়ার দায় দেখ কেউ নিলো না, তোর ওপরেই দোষ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তুই তো আর নিজের হয়ে লড়তে পারবিনা, এটাই ওদের কাছে তুরুপের তাস।”
রাহুলের চলে যাওয়ার সাথে অভিনেত্রী তার বাবার মৃত্যুর মিলও খুঁজে লিখেছেন,“মায়া নেই, দুঃখ নেই, আহা নেই, দায়বদ্ধতা নেই, কাজের নিয়ম নিয়ে কৈফিয়ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, আসলে বোধটাই নেই। আমরা সবাই রিপ্লেসেবল। তোর চলে যাওয়া বাবার বলে যাওয়া কথাগুলোয়ে শীল মোহর বসালো।”
একটি পুরনো কাজের স্মৃতি টেনে স্বস্তিকা জানান, ২০১৪ সালে রাহুলের সঙ্গে করা একটি কাজ তার কাছে এতদিন বিশেষ ছিল। এখন সেটিই হয়ে উঠেছে গভীর বিষাদের প্রতীক। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে মার্চ মাসের সঙ্গে- ১১ তারিখে বাবার মৃত্যু, আর ২৯ তারিখে রাহুলের প্রয়াণ এই মাসটি তার কাছে নতুন এক বেদনার অর্থ নিয়ে এসেছে।
শেষে কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে প্রিয় বন্ধুকে বিদায় জানান স্বস্তিকা।








