চেইন সুপারশপ স্বপ্ন–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির। ২০১২ সাল থেকে দেশীয় চেইন সুপারশপ স্বপ্ন তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। স্বপ্নের বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ এবং ঈদকে সামনে রেখে পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
চেইন সুপারশপ স্বপ্ন–এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্ক্যে তিনি বলেন, স্বপ্নের এখন ৫৯৫ টা স্টোর রয়েছে। আমাদের ১২০০ এর উপরে ফার্মারের সাথে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম গ্লোবাল গ্যাপ সার্টিফাইড প্রোডাক্ট আমরা নিয়ে এসেছি। সো ব্র্যান্ড হিসেবে স্বপ্ন অনেক পাওয়ারফুল হয়েছে আমি বলব যে ওভার ১২ ইয়ার্স। আমরা অপারেটিং প্রফিটে এসেছি। গত দু’বছর ধরেই অপারেটিং প্রফিট করছি আমরা। এগুলো পজিটিভ ইন্ডিকেটর। জনসাধারণের ব্যাপক আস্থার জায়গা স্বপ্ন। ভালোবাসার জায়গাটা স্বপ্ন। সেটা খুব বড় জায়গা আমাদের কাছে প্রাপ্তির থেকে।
সুপারশপ স্বপ্নে ক্রেতাদের ৫% ভ্যাট দিতে হবে না
সুপারশপ স্বপ্নে অবসান হলো সেই ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ভ্যাটের। গত ৯ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূসক আইন ও বিধি শাখার এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। সুপারশপগুলোর ক্ষেত্রেও এই হার সুপারশপ স্বপ্নে ক্রেতাদের ৫% ভ্যাট দিতে হবে নাপ্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়। এরপর সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সুপারমার্কেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় ভ্যাটের হার কমানোর জন্য অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে সুপারশপের প্রতিনিধিরা তিনটি সুনির্দিষ্ট ক্রেতাবান্ধব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেন এবং তাঁরা ভ্যাটের যে আদর্শ পদ্ধতি রয়েছে তা অনুসরণের পরামর্শ দেন। তাঁরা বলেন, ভ্যাটের স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে ১৫ শতাংশ মূসক পরিশোধ করে ক্রয়ের ওপর রেয়াত গ্রহণ করা। সেই নীতি অনুসারে সুপারশপগুলো যদি ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করে, তাহলে তারা অন্যান্য নিয়ম মেনে সহজেই ভ্যাট রেয়াত নিতে পারবে।
এই পদ্ধতিতে ক্রেতাদের বাজার করার পর সেই অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা বর্তমানে কার্যকর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আর দিতে হবে না। পণ্য মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটির বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দুই পক্ষ আলোচনা করে নিরসনের জন্য সম্মত হয়।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, ‘দেশের সার্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বিশাল চাপের মধ্যে আছে।
আমি মনে করি, ন্যায্যমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদ, পুষ্টিমানসম্মত খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপণ্য কেনার অধিকার আপামর জনগণ সবার। আগে ৫ শতাংশ যে ভ্যাট ছিল সুপারশপে, সেটা সবার জন্য বাড়তি একটা খরচ ছিল। এখন সেই অতিরিক্ত খরচ আর থাকবে না। আশা করছি, এতে বাজারব্যবস্থায় একটা সমতা আসবে।’সাব্বির নাসির আরো বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এনবিআর এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ভ্যাট বৈষম্যের বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। স্বপ্নে এখন থেকে ক্রেতাদের সেই ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। এ সাফল্য আপনার, আমার, আমাদের, সবার, সারা দেশের। ‘কষ্টের টাকায় শ্রেষ্ঠ বাজার’-এই স্লোগান এখন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হতে চলেছে।’
সময় যেভাবে চলে খরস্রোতা নদীর মত, বাংলাদেশের এই মুহূর্তের অর্থনৈতিক অবস্থা বা সামাজিক পরিস্থিতি যেরকম তার সাথে খাইয়েই স্বপ্ন চলছে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য। আমাদের ওভারঅল পোর্টফোলিওতে প্রায় ২৪০০০ এর বেশি প্রোডাক্ট স্বপ্নে থাকে। আপনি যদি রেভিনিউর জায়গা থেকে বলেন তাহলে প্রায় ৩০ ভাগ আমাদের ফ্রেশ প্রোডাক্ট থাকে। ফ্রেশ প্রডিউস যেটা আমরা বলি। মানে মাছ মাংস সবজি ফল এগুলো সরাসরি কৃষক থেকে আসে। এর মধ্যে যদি আপনি সবজি বলেন আর মাছ, সেটা প্রায় ৬০ শতাংশ সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আসে; বাকিগুলো আমরা বাজার বা অন্য হোলসেল মার্কেট থেকে কিনি। এছাড়া ইম্পোর্টেন্ড প্রোডাক্টের মধ্যে আমাদের প্রায় ৭০ ভাগ প্রোডাক্ট ড্রাই প্রোডাক্ট। এটার মধ্যে আবার ৪৫ ভাগ প্রোডাক্ট বিদেশ থেকে আসে। বাকিটা সব দেশীয় প্রোডাক্ট।
চাল, ডাল, আটা, ময়দা কিংবা তেল, মাছ, মাংস বা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য প্রসঙ্গে সাব্বির হাসান নাসির বলেন, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে যতগুলো কোম্পানির প্রোডাক্ট আছে, যেগুলোর প্রাইস এমআরপি লেখা থাকে, গায়ে দাম লেখা থাকে, এগুলোর যদি কেউ কেনাকাটা করে তবে বাজার থেকে স্বপ্নে গেলে তার দাম কম। কেন? স্বপ্নে এখনকার যে ভ্যাট আইন, সেটা অনুসারে কাস্টমারকে কোন ভ্যাট দেওয়া লাগছে না। মানে স্বপ্নে যদি কোন কাস্টমার ঢোকে এমআরপির উপরে কোন ভ্যাট তাকে আর দেয়া লাগে না।
এখন আইন হয়েছে। এই আইন আমরা লবিং করেই করিয়েছি। আমরা এনবিআর কে বুঝাতে সক্ষম হইছি যেটা আমাদের লাগবে। যাতে মানুষের লাভ হয়। কারণ এমআরপির উপরে তো কোন ভ্যাট নাই। এবার এমআরপির মধ্যে আমরা প্রচুর পরিমাণে ডিসকাউন্ট দেই বিভিন্ন প্রোডাক্টে। আপনি যেকোনো স্টোরে যদি যান, আপনি দেখবেন প্রচুর পণ্য। অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ পণ্যের আপনি ছাড় পাবেন। সেই ছাড় যদি হিসাব করেন, কোনটা ৪০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০ টাকা তো মিনিমাম থাকবেই ছাড়। এই ছাড় যদি আপনি হিসাব করেন তাহলে গেইন করছেন না? তাহলে বাজারের যেকোনো দোকান থেকে স্বপ্নে যদি যান তাহলে দাম কম না? আমার ৭০ শতাংশ প্রোডাক্ট তো এগুলা।
এবার আসেন মাছ, মাংস, গরুর বিষয়ে। এই যে চাল, চিনি, পিঁয়াজ, আলু এগুলোতে সবসময় দেখবেন দাম কম থাকে স্বপ্নে। যদি একই কোয়ালিটি চেক করেন, সেম কোয়ালিটিতে স্বপ্নে দাম কম থাকবে। এটা আমাদের পলিসি আপনি বলতে পারেন। আর হ্যাঁ, কখনো কখনো মুরগি বা কোন কোন মাছের দাম হয়তো স্বপ্নে বেশি, এসব ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এনে দাম কমাতে। অনেকে জানেন যে কিছু সবজির দাম স্বপ্নে গেলে অনেক কম। কিছু মাছ স্বপ্নে গেলে দাম কম। কখনো গরুর মাংস ওই একই কোয়ালিটি একই দামে অন্য কোথাও আপনি পাবেন না। দুই দাঁত থেকে চার দাঁতের দেশি গরু এই দামে অন্য কোথাও পাবেন না। এই কোয়ালিটিতে কখনোই আমার মনে হয় না যে প্রাইস অন্যরা কম দিতে পারে। অনেকের মাথায় এখনো ঢুকে আছে সুপার শপ এক্সপেন্সিভ। আর সুপার শপের দাম বেশি। আমি তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাবো স্বপ্নে আসেন প্যাকেটজাত পণ্যগুলো প্রথমে ট্রাই করেন। দেখেন যে আপনার এখানে সেভ হয় না বাইরে সেভ হয়। যদি এইখানে হয় মনে করেন, এখানেই থাকেন।
স্বপ্নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবার পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির এমডি সাব্বির হাসান নাসির বলেন, আমি একটা নতুন কনসেপ্ট নিয়ে এসছি। সেই কনসেপ্টটা হচ্ছে, যদি প্রোডাক্ট একটা নির্দিষ্ট নিডকে সার্ভ না করে এটা যদি হেলদি না হয় তবে পাঁচ বছর পরে সে প্রোডাক্ট আর দেখতে পাবেন না। এর মানে এটা হচ্ছে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিকস এগুলোকে যদি মাথায় নিয়ে না তৈরি হয় আপনি প্রোডাক্টও পাবেন না। আমরা আস্তে আস্তে একটা কনসাস ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদেরকে এস্টাবলিশ করছি। আপাতত আমরা সাপ্লাইদের প্রমোট করছি যেটাই কনজ্যুমাররা চান সেই প্রোডাক্টগুলো রাখতে।
ভবিষ্যতে আমরা সাপ্লাইদেরকে অনুপ্রাণিত করব এবং মটিভেট করার চেষ্টা করব, হেলদি প্রোডাক্ট দিতে। আমি মনে করি যে আমরা একটা এভলিউশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ক্রেতারা চান স্বপ্ন থাকুক তার বাসার আশেপাশে। সেখানে প্রোডাক্ট থাকুক যেগুলো তারা চান। আমরা যে ১০০ ভাগ সব প্রোডাক্ট ওখানে নিশ্চিত করতে পারছি তা আমি বলবো না। কিন্তু আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমার ধারণা, আগামী তিন মাসের মধ্যে আপনি দেখবেন যে স্বপ্নের যেকোনো রিমোট প্রান্তে যে প্রোডাক্ট কাস্টমাররা চাচ্ছেন তা পাবেন।
আমরা রমজানের যে সমস্ত প্রোডাক্ট এগুলো জানি এবং আমাদের প্রচুর কাস্টমার সেশন হয় যেখানে থেকে আমরা বের করতে পারি যে কাস্টমাররা কী চান। শুধু রমজান বলে না, হোক পহেলা বৈশাখ, হোক যেকোনো উৎসবের বিশেষ সময়। আমরা জানি তাদের কি প্রয়োজন এবং সেইসব প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ ছাড় দেই। সেগুলোর কোয়ালিটি নিয়ে স্ট্রং মনিটরিং সেল বসাই। তার ফলে ক্রেতাদের বান্ধব হয়ে উঠি আমরা। এবারের ঈদের স্পেশাল কি সেগুলো তো একটু সারপ্রাইজ রাখারই চেষ্টা থাকবে। এখনো সবকিছু বলে দিলে তো আর হবে না। হ্যাঁ, আপাতত দেখতে পাচ্ছেন যে রমজান, এই সময় বেশ কিছু জিনিস তারা কিনছেন। আমাদের এখান থেকে বেশি করে। নিশ্চয়ই তারা এখানে কোন একটা ভ্যালু খুঁজে পাচ্ছেন। সুতরাং ঈদেও চমক থাকবে।








