জাতীয় পার্টিকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে সারাদেশে দলটির ২২৪ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রতিবাদ করেছে ‘মঞ্চ ২৪’ নামের একটি সংগঠন।
একইসাথে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে তারা বলেছে, জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সকল পথ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের মতো সর্বাত্মক আন্দোলনের পথে যেতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না বলেও জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেন ‘মঞ্চ ২৪’ এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। এসময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মহান বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই নতুন বাংলাদেশের জনগণ যেকোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে লড়াই করতে প্রস্তুত।
ক্ষমতার রাজনীতিতে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ এককভাবে নয়, বরং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের মাধ্যমে বাকশালী শাসন কায়েম ছিল। আওয়ামী লীগ যে পরিমাণ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, ঠিক একইভাবে সেই অপরাধের দায় ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকেও নিতে হবে। সুতরাং বিচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
আমরা লক্ষ্য করছি, দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ করলেও এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় সহযোগী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। আমরা মনে করি, জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো বাকশালী মুজিববাদী রাজনৈতিক শক্তির কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কারণ এসব শক্তির রাজনীতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি’, দাবি করেছে মঞ্চ ২৪।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত প্রতিটি প্রহসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একই ভূমিকা পালন করেছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আধিপত্যের মাধ্যমে যারা দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে, সেই দল কিংবা জোটের কেউই জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
ফাহিম ফারুকী জানান, জুলাই গণআন্দোলনের সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর অতর্কিত হামলার মাধ্যমে জাতীয় পার্টি আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা দিল্লির পরামর্শে বাংলাদেশবিরোধী রাজনীতি করে যাচ্ছে। সেই হামলা এবং দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য জাতীয় পার্টিকে বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবহেলা ও বিচারহীনতার সুযোগ নিয়ে আজ জাতীয় পার্টি ২২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। জুলাইয়ের পর জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ তো দূরের কথা, তাদের বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করারও কোনো অধিকার থাকার কথা নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি—জাতীয় পার্টিকে যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আপামর ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের মতোই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। আমরা সরকারকে স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিচ্ছি—জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সকল পথ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সর্বাত্মক আন্দোলনের পথে যেতে আমরা এক মুহূর্তও দ্বিধা করব না।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের গণহত্যার সঙ্গে সহযোগীদের বিষয়ে সরকারকে ইতোমধ্যে দু’ দফা উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে একটি নোটিশ দিয়েছেন এক এনসিপি নেতা, আরেকটি জুলাই ঐক্য। আমরা দাবি করছি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, জুলাইয়ের সব স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।








