এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভিয়েতনামে সুপার টাইফুন ইয়াগির আঘাতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ।
বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর দেশটির উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। ইয়াগির প্রভাবে দেশটিতে ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস এবং বন্যা দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার লোককে বাসার ছাদে আটকে থাকতে দেখা গেছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।
দেশটির সরকারি সংবাদ মাধ্যম ভিএন এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার সকালে চাও ব্যাং এর পার্বত্য প্রদেশে ভূমিধসের ফলে ২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস নদীতে ভেসে গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৭৫২ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া ফু থো প্রদেশে সোমবার সকালে উপচানো রেড নদীর ওপর একটি স্টিলের সেতু ভেঙ্গে পড়ে। এতে ১০টি গাড়ি ও ট্রাকসহ দুটি মোটরসাইকেল নদীতে পড়ে যায়। তিনজনকে নদী থেকে তোলা হয়েছে এবং তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৩ জন।
টান দীর কাছাকাছি বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী ফান থি তুয়েত বলেছেন, তিনি কখনও এমন কিছু দেখেননি। তিনি বলেন, আমি সব হারিয়ে ফেলেছি, সব চলে গেছে। আমাদের জীবন বাঁচাতে আমাকে উচু ভূমিতে আসতে হয়েছিল। আমরা কোনো আসবাবপত্র সঙ্গে আনতে পারিনি। এখন সবকিছুই পানির নিচে।
ভিয়েতনামে কয়েক দশকে যতগুলো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে তার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি সবচেয়ে শক্তিশালী। ইয়াগির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। দেশের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, মুষলধারায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার ফলে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস ঘটতে পারে।
ভিয়েতনামে আঘাত হানার আগে গত সপ্তাহে ইয়াগির তাণ্ডবে ফিলিপিন্সে কমপক্ষে ২০ জন এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চলে চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে।







