চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেজে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ মে) রাত সাড়ে দশটার সময় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে এই লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে উদ্ধার করতে আসা কিছু শিক্ষার্থী তাকে পাকড়াও ও জেরা করে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
অভিযুক্ত মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে আরেফিন কাব্য (৩০), পিতা আবুল বাহার। সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্রের কাছে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ওই শিক্ষার্থীকে ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে গায়ে কাটা-ছেঁড়া, মাথা ন্যাড়া করে ফেলতে বাধ্য করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, ছেলেটি মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আমার সাথে সম্পর্ক গড়ে। প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেয় সে। পরে আকিজ কোম্পানির চাকরি করছে বলে জানায়। এরপর এনএসআই সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বলে জানায়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা-ছেঁড়া করার শর্ত দিতো। নানা সময়ে সমস্যা দেখিয়ে এক লাখ টাকা নিয়েছে আমার কাছ থেকে। অনেক সময় আমাকে অনুনয়-বিনয় করেও দুই মিনিটের জন্য দেখা করার জন্য শর্ত দিতো সে। নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে চুল ফেলে দেওয়া, সবাইকে সবকিছু বলে দেওয়াসহ রুমমেটদের সাথেও সম্পর্ক ছেদ করতে বলেছে আমাকে। ও যে প্রতারক তা আমি এক বন্ধুর মাধ্যমে পরে জানতে পারি এবং একে একে সব তথ্য জোগাড় করি আমি। আমি এখন মামলা করবো।
চবি সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, ‘রাত প্রায় তিনটা-সাড়ে তিনিটার দিকে আমাদের কাছে তথ্য আসে। আমরা জানতে পারি সে বহিরাগত ও এরকম আরও নানা অপরাধের সাথে জড়িত। মেয়েটিকে নানাভাবে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করেছে। আমরা তার স্বীকারোক্তি নিয়েছি এবং তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। মেয়েটির পরিবার মামলা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
প্রক্টরকে এ সম্পর্কে অবগত করেন নাট্যকলা বিভাগের ১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী মাহফুজুল হুদা লোটাস।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘গতকাল আরেফিন কাব্য আমাকে এসে বলেন তাকে কয়েকটি ছেলে মারতে চাইছে। ওদের জিজ্ঞেস করলে জানতে পারি ও কি কি করেছে। তখন ওকে আরও প্রশ্ন করতে থাকি এবং তার আরও অনেক কুকীর্তি সামনে আসতে থাকে।’
তিনি আরও জানান, ‘ও মেয়েটির সারা গায়ে দাগ ফেলে দিয়েছে পরোক্ষভাবে নির্যাতন করে। মেয়েটিকে সে গায়ের নানা অংশে, গোপনাঙ্গে কাটাছেঁড়া করতে বাধ্য করেছে বলে জানতে পারি। হাতে-কাঁধে বিভৎস দাগগুলোও দেখেছি। ও এখানকার ছাত্র না, মিথ্যে পরিচয় দিয়ে এতদিন প্রতারণা করছে। প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছে। ওর ফোনে অনেক ছবি ও ভিডিও ছিল। একাধিক মেয়ের সাথে সে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়েছিল।’
আজ শুক্রবার (৩ মে) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।







