যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে তেহরান। একইসঙ্গে প্রণালি ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ইরান।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। প্রতিটি জাহাজের জন্য ইরানের অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, এই নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং তা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় দ্রুত ফেরা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছে তেহরান।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে আর্থিক দাবিও তুলেছে ইরান। তেহরান চায়, বিদেশে আটকে থাকা তাদের সম্পদ দুই সপ্তাহের মধ্যে মুক্ত করতে হবে।
ইরানি সূত্রের ভাষ্য, অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চয়তা, যা দুই সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর করতে হবে। ইরান আরও দাবি করেছে, তাদের শর্ত অনুযায়ী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র যেন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি না বাড়ায় এমন দাবিও জানিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে পূর্বের চুক্তির শর্ত মেনে চলার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
গত ৭ এপ্রিল নিজ ঘোষিত সময়সীমার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তিনি ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং হরমুজ প্রণালি খুলতে তেহরানের প্রস্তুতির কথা জানান।
আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে লেবানন ইস্যুতে এই নাজুক যুদ্ধবিরতি চাপে পড়েছে। ইরান বলছে, যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর জবাবে ইরান সতর্ক করেছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এদিকে, ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলেও জানা গেছে।







