ফেব্রুয়ারি মানেই বসন্ত, ফেব্রুয়ারি মানেই বাতাসে আবেগ আর ভালোবাসার টান। মনের কোণে জমে থাকা ভালোবাসার কথা প্রিয় মানুষকে জানানোর সময়। ব্যস্ততাময় প্রবাস জীবনে ভালোবাসার মানুষকে মনের কথাটা বলা যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই স্নায়ুচাপের বিষয়। প্রবাস জীবনে প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পাওয়া কখনও কখনও কল্পনাও।
বরফাচ্ছন্ন কানাডা বছরের এই সময়টাতে প্রকৃতি ভিন্ন অবয়বে নতুন চেহারায় জেগে উঠলেও প্রকৃতিতে বিরাজ করে মিলন আর বিরহের চাঞ্চল্য আর অস্থিরতার আমেজ। চারদিকে গাছগাছালিগুলো নতুন অবয়বে রুপ বদলায়।
বহু সম্প্রদায়ের দেশ কানাডায় দিনটি গতানুগতিক মনে হলেও প্রবাসী বাঙ্গালীদের কাছে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা, আবেগ-অনুভূতি-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠা মাধুর্যমণ্ডিত দিন, যেন নিজেকে ভালোবাসায় সমর্পিত ও উদ্ভাসিত করা।
কর্মময় একঘেঁয়েমি জীবন থেকে বেরিয়ে এসে দিনটিতে প্রবাসী বাঙ্গালীরা সুরে ও বাণীর মালায় ছুঁইয়াছিলেন একে অপরের।প্রবাসের মাটিতে ফিরে যায় সোনালী অতীতের ফেলে আসা সেই স্মৃতিতে।
বাঙালীর জাতিসত্তার প্রকৃত পরিচয় ও বাঙালিয়ানাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মাতরে ধরে রাখতে এবং আবহমান বাংলার কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্যের সাথে সেতু বন্ধন তৈরি করতেই বসন্তের আয়োজন।
বরফ আচ্ছন্ন কানাডায় ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক-গাঁদা, মালতী, চন্দ্রমল্লিকা, শিমুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়ার দেখা না মিললেও প্রবাসীদের শ্রদ্ধা ভালোবাসা আর সহমর্মিতায় বিপুল তরঙ্গে আন্দোলিত হয়ে ওঠে বাঙালি মন।
সব কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আসে বসন্ত। কোকিলের কুহুতান, দক্ষিণা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নূপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন- সবই এ বসন্তে। বসন্ত মানেই পূর্ণতা, বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব








