রমজান সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস হলেও রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটি এখন বাড়তি ব্যয়ের বোঝা নিয়ে আসে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ইফতার সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দেখা দেয় অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। এতে সীমিত আয়ের মানুষদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মিরপুর কাঁচাবাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ও ঝিগাতলা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী।
লেবু থেকে সবজি- সবখানেই আগুন
রমজানে ইফতারের অপরিহার্য উপকরণ লেবুর দাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ভালো মানের লেবু হালি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ২০ থেকে ৪০ টাকা। ফলে একটি লেবুর দামই পড়ছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
সবজির বাজারেও একই চিত্র। বেগুন কেজিতে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ও গাজরের দামও বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের তুলনায় অনেক সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।
নিত্যপণ্য ও আমিষে বাড়তি চাপ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও স্বস্তি নেই। পেঁয়াজ কেজিতে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চালের দামও বেড়েছে কেজিতে ৩-৪ টাকা।
আমিষের বাজারে বেড়েছে মুরগি, মাছ ও মাংসের দাম। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। চাষের মাছ তেলাপিয়া ও পাঙাশ ২২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই-কাতলা ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। গরুর মাংস কেজিতে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ টাকার ওপরে।
ফলের বাজারেও চড়া দাম
রমজানে জনপ্রিয় ফল মাল্টা, আপেল ও খেজুরের দামও বেড়েছে। মাল্টা কেজিতে ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা, আপেল ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলা, পেঁপে ও পেয়ারা আগের তুলনায় ১০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। এক ডজন ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেকের কাছে বাজার পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষ হওয়া, সরবরাহ কমে যাওয়া ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচও বেড়েছে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। অনেকের মতে, রমজানকে অতিমুনাফার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দিনমজুর, রিকশাচালক, গৃহকর্মী ও নিম্নবেতনভুক্ত চাকরিজীবীরা বলছেন, আয় অপরিবর্তিত থাকলেও রমজানে খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ ধার করে চলছেন, কেউ আবার পুষ্টিকর খাবার কমিয়ে দিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদ ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানকেন্দ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। নিয়মিত তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।







