বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রপ্তানি খাতে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়িক পরিবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, ধারাবাহিক রপ্তানি হ্রাস, ক্রয়াদেশ পিছিয়ে যাওয়া ও তারল্য সংকটের ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখে রপ্তানির ধারাকে অব্যাহত রাখতে সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থায়ন সহায়তা প্রদান জরুরি। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে বিশেষ মেয়াদি ঋণ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে, যাতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শ্রমিক-বেতন ও ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত হয়।
ঋণ সুবিধার পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসের গড় বেতন/ভাতার বেশি হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানগুলো মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, তারা রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, নভেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সচল হিসেবে বিবেচিত হবে।
সচল ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র প্রদর্শন করতে হবে, যা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন যেমন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ থেকে প্রদত্ত হতে হবে। এই ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে।






