মাঠ পর্যায়ের সংবাদ সংগ্রহ আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ জ্বালানি সরবরাহ কর্মসূচি চালু করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই উদ্যোগ সাংবাদিকদের চলাচল সহজ করে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্যোগটি চালু করেছেন মো. নাজমুল হক, যিনি বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক।
কর্মসূচির আওতায় ডিআরইউ সদস্যরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সদস্য পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে রমনা পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি নিতে পারবেন।
নাজমুল হক বলেন, সাংবাদিকরা তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে তারাই প্রথম সংবাদ তুলে ধরেন।
“তাদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের চলাচল আরও সহজ করতে এবং কাজকে সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে,” বলেন তিনি।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে বলেন: “সাংবাদিকরা জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেন। মাঠ পর্যায়ে তাদের চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক পেশার জন্য আলাদা জ্বালানি সুবিধা থাকলেও সাংবাদিকদের জন্য তা নেই। আমরা আশা করি, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের পেট্রোল পাম্পগুলোতেও এ ধরনের সুবিধা চালু হবে।”
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এই উদ্যোগ সাংবাদিকদের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়াবে।
“সাংবাদিকরা সবসময় চলমান থাকেন। এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং এটি তাদের উৎসাহ ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে,” যোগ করেন তিনি।
ডিআরইউ সদস্যরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, নতুন এই জ্বালানি সুবিধা মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনে বাস্তব ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, বিশেষ করে রাতের সময়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য এটি নিরাপত্তা ও চলাচলের সুবিধা বহুগুণে বাড়িয়েছে।
সাংবাদিকরা বলছেন, কর্মসূচিটি ইতোমধ্যে সংবাদ সংগ্রহের গতি বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দূরবর্তী স্থানে দ্রুত পৌঁছানো সংবাদ কাভারেজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যা আগে জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাহত হতো। ফলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হতো। তবে এই উদ্যোগ চালুর পর সেই বাধা অনেকটাই কমেছে এবং এখন সাংবাদিকরা দ্রুত সাড়া দিয়ে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য পরিবহন ও জ্বালানি সহায়তা একটি মৌলিক সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে এই উদ্যোগকে সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারিত হয়ে জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের পেট্রোল পাম্পগুলোতেও চালু হবে, যা দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।






