স্পেনে টিকিট জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক রেফারিকে। জালিয়াতি করে লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের ম্যাচের টিকিট নিয়মিত বিক্রি করার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রেফারিসহ আরও দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ভিয়েরিয়ালের ঘরের মাঠ এস্তাদিও দে লা সিরামিকায় লিগ পর্যায়ের ম্যাচের টিকিট জালিয়াতি ও টিকিট বিক্রি করার ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন নিজের পদমর্যাদা ব্যবহার করে তরুণ খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেন। সেই তথ্য ব্যবহার করে ২৫ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য নির্ধারিত ভিয়ারিয়ালের সিজন টিকিট সংগ্রহ করেন।
স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে বিক্রিত টিকিট ধরা পড়ার পর ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে পুলিশের নজরে আনে। তদন্তে দেখা যায়, সন্দেহভাজনরা অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে সিজন টিকিট কিনে পরে সেগুলোর বারকোড ও কিউআর কোড পরিবর্তন করতেন। পরিবর্তিত সিজন টিকিটগুলো পরে ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস ও সেকেন্ড-হ্যান্ড অ্যাপে বিক্রির জন্য তোলা হতো এবং আইনি জটিলতা এড়াতে উপহার হিসেবে বিজ্ঞাপন দেয়া হতো।
তদন্তকারীরা প্রমাণ পাওয়া যায়, অপরাধীদের একজন স্বীকার করেন, ১৮ জনকে ক্লাব স্কাউট সদস্য বা সিজন টিকিটধারী হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন। তিনি যেসব ব্যক্তির পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। বিবৃতি দেয়ার পর আটক দুইজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং মামলাটি ভিলারিয়াল আদালতে পাঠানো হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের ৬০১ ইউরো থেকে ৩০,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
অবশ্য এ মৌসুমে স্পেনের রেফারির সাথে পুলিশের ঝামেলায় জড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছর স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের এক রেফারিকে যৌনকর্মীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ পরিশোধ না করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে তাকে বাধ্য করেন।
এদিকে, স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভোক ভিনসিক অতীতে ভুলবশত এক পুলিশ অভিযানে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল পরিচালনা করা এই রেফারি ২০২০ সালের মে মাসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি খামারে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয়ার সময় পুলিশ অভিযানে তিনি আটক হন। পরে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করে মুক্তি দেয়া হয়।


