ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং কৌশলগত প্রশংসার মাধ্যমে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। বৈঠকের আগে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘পূর্জ বা বিপ্লব’ প্রসঙ্গ উল্লেখে রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সরাসরি বৈঠকে সেটি আর গুরুত্ব পায়নি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প বৈঠকের বেশিরভাগ সময় উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেও, লির প্রশংসাসূচক অবস্থান কার্যকর হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তিনি ট্রাম্পকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান ব্যক্তি আখ্যা দিয়ে বলেন, আপনি যদি শান্তিদূত হন, তবে আমি হবো গতি সঞ্চারক। এমনকি মজা করে উত্তর কোরিয়ায় ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণ ও গলফ খেলার কথাও বলেন লি।
প্রথমবারের মতো মুখোমুখি এই বৈঠকে ট্রাম্প একাধিকবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমি কিমের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছি এবং আমরা একে অপরকে খুব ভালো বুঝতে পারি।
লি নিজেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ট্রাম্পকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তবে বাস্তবে উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে লির সংলাপের প্রস্তাব একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও আলোচনার বাইরে রেখেছে।
বৈঠকে আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় ছিল বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা। দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনতে সক্ষম হলেও, আরও ছাড়ের সুযোগ হয়নি। এরই মধ্যে সিউল যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে জাহাজ নির্মাণ খাতে। বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর কোরিয়ান এয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তারা বোয়িংয়ের ১০৩টি বিমান কিনবে।
তবে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে কোনো নতুন সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান। এমনকি ওসান এয়ারবেস মার্কিন মালিকানায় দেওয়ার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি।
তবে ট্রাম্প অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্য, বিশেষ করে জাহাজ ভালোবাসি। আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রয়োজনীয় তেল ও গ্যাস আমরা সরবরাহ করব।








