নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসীকে মারধর ও চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রবাসী সহোদরদেরকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে ভয়ভীতিসহ নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তাদের চাচার বিরুদ্ধে। মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানো ছাড়াও হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়া করা লোক দিয়ে হত্যা চেষ্টারও অভিযোগ প্রবাসী পরিবারের।
জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরনোয়াগাঁও মৌজায় পৈত্রিক ও ক্রয় সূত্রে বেশ কিছু জমির মালিক দেলোয়ার হোসেন মীর। তার চার ছেলের বড় দু’জন পর্তুগাল ও লন্ডন প্রবাসী। তারা সেখানে নাগরিকত্ব প্রাপ্ত। অপর দুই ছেলের একজন ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অন্যজন গ্রামে থাকেন।
কয়েকবছর আগে দেলোয়ার হোসেন মীর মারা গেলে তার ভাই আক্তারুজ্জামান নয়ন সেই জমি নিজের বলে দাবি করেন। এবং দেলোয়ার হোসেন মীরের সন্তানদের বঞ্চিত করতে নানা অপকৌশল গ্রহণ করেন।
দীর্ঘদিনের সেই বিরোধের জেরে সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে দেলোয়ার হোসেন মীরের ছেলে প্রবাসী পাভেল মীর এলাকার মসজিদের ইমামকে খাবার দিয়ে বাড়ীতে ফেরার পথে তার গতিরোধ করে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে অর্তকিত হামলা চালিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেন তাদের চাচা আক্তারুজ্জামান নয়ন ও তার সহযোগিরা। এসময় সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় দুস্কৃতিকারীরা।
এ ঘটনায় তাদের ছোটভাই পালাশ মীর বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের পৈত্রিক জমি আত্মসাৎ করতেই চাচা আক্তারুজ্জামান নয়ন নানা অপকৌশল করছে। বিভিন্ন সময় প্রাণ নাশের হুমকী ধামকি দেয়। এর আগেও তাদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করে। ওই মামলায় সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আদালত তাদেরকে জামিন দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে প্রবাসী পরিবারটি।
জানা গেছে, প্রবাসী রুবেল মীর ও পাভেল মীর দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করায় বাবার ওয়ারিস সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দেখভাল করার সুযোগ না পাওয়ায় তাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখলের চেষ্টা করেন আলমগীর হোসেন ও আক্তারুজ্জামান নয়ন। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না প্রবাসী পরিবারটি।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








