ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য নিয়ে। টানা তৃতীয় মেয়াদে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। তার এবারের মন্ত্রিপরিষদ কেমন হতে যাচ্ছে, সাবেক কে কে ধরে রাখছেন তাদের মন্ত্রীত্ব, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
রোববার (৯ জুন) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১১ ঘণ্টার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিজেপি নেতা অমিত শাহ এবং বিএল সন্তোষ উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ একটি সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠক শেষে কিছু নাম উঠে আসে, যারা এবারের মন্ত্রী সভার সদস্য হতে যাচ্ছেন। যাদের মধ্যে এন চন্দ্রবাবু নাইডুর (টিডিপি) এবং নীতীশ কুমারের (জেডিইউ) সম্ভবত মোদি সরকারের একটি মন্ত্রিসভা এবং অন্যজন প্রতিমন্ত্রীর পদ পেতে যাচ্ছেন। কারণ এনডিএ নেতারা মোদির মন্ত্রীসভা কেমন হতে যাচ্ছেন, তা নিয়েও আলোচনা করছেন।
সূত্র জানায়, বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সড়ক ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি তাদের নিজেদের মন্ত্রীত্ব ধরে রাখবেন। এছাড়া রাজ্যসভার সাংসদ নির্মলা সীতারামন এবং ডা. এস জয়শঙ্কর তাদের অবস্থানও ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য মিত্রদের মধ্যে, এলজেপির চিরাগ পাসওয়ান (রাম বিলাস) জেডিএসের এইচডি কুমারস্বামী, আপনা দলের অনুপ্রিয়া প্যাটেল (সোনেলাল), আরএলডির জয়ন্ত চৌধুরী এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার জিতন রাম মাঞ্জি মন্ত্রী পদ পেতে পারেন বলে সূত্র জানাচ্ছে। এছাড়া একনাথ শিন্ডের শিবসেনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বুলধানার সাংসদ প্রতাপরাও যাদব। আর রাজ্যসভার সাংসদ এবং বিজেপির দীর্ঘমেয়াদী মিত্র রিপাবলিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (এ) প্রধান রামদাস আঠাওয়ালেও মন্ত্রী হতে চলেছেন৷
নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদীয় দপ্তরের পরিচালনা করা প্রলাহাদ জোশী, হরিয়ানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, মধ্যপ্রদেশের নেতা শিবরাজ সিং চৌহান এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও পেতে যাচ্ছেন মন্ত্রী পদ। এছাড়া উত্তর-পূর্ব থেকে বিজেপির নেতা সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং কিরেন রিজিজু মন্ত্রী হিসেবে ফিরতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
এছাড়া আরও কিছু নাম বিভিন্নভাবে আলোচনায় আসছে। এসব নামের মধ্যে রয়েছে, জি কিশান রেড্ডি, শোভা করন্দলাজে, বিএল ভার্মা, বান্ডি সঞ্জয় কুমার, নিত্যানন্দ রাই এবং গিরিরাজ সিং।
গত দুই মেয়াদে মোদির বিজেপি একাই অর্জন করেছিল সরকারের গঠনের শর্ত। ২৭২ আসনের উপরে জয়ী ছিল তারা। যার ফলে অন্যকোন জোটভুক্ত দলের সাথে দর কষাকষি করতে হয়নি তাদের। ক্ষমতা বলে নিজেরাই ঠিক করেছিল মন্ত্রিপরিষদ কিন্তু এবার ২৪০ আসনে জয় লাভ করায় কিছুটা বিপাকে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি।
আর এটি চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নীতীশ কুমারকে কিংমেকারদের অবস্থানে নিয়ে গেছে। উভয়ই জোট নিয়ে দর কষাকষি করতে দক্ষ। এছাড়া বিজেপির সংখ্যা তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিজেপির একটি শীর্ষ সূত্রে এনডিটিভি জানায়, বিজেপি নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছাড়বে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। আর তা হলো- স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থ এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এছাড়াও সড়ক ও যোগাযোগের সম্প্রসারণ এবং কার্যক্রম নিয়ে মোদির প্রথম এবং দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনায় ব্যাপক প্রশংসিত হওয়া নীতিন গড়করিও তার মন্ত্রণালয়ে থাকছেন বলে সূত্র জানায়।
জেডিইউ থেকে সাবেক দলীয় প্রধান রাজীব রঞ্জন সিং এবং রাজ্যসভার সাংসদ ও বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কার্পুরি ঠাকুরের ছেলে রাম নাথ ঠাকুর মন্ত্রী পদ পেতে পারেন বলেও সূত্র জানায়।
এছাড়া টিডিপির সাবেক সাংসদ জয়দেব গাল্লা সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ একটি পোস্ট করে তিনবারের সাংসদ রাম মোহন নাইডু এবং চন্দ্রশেখর পেমমাসানিকে শুভেচ্ছা জানান। কারণ, তারাও এবার মন্ত্রী পদ পেতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।








