নারী নেতৃত্ব সমাজকে আরও দৃঢ় ও সাহসী করে তোলে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, নারীদের চিন্তা-ভাবনা ও অগ্রযাত্রা জাতির উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রতিটি নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম নির্ধারক। তিনি বলেন, নারীরা শিক্ষিত হলে জাতি আলোকিত হয়, প্রেরণা পেলে এগিয়ে যায় এবং নেতৃত্ব দিলে সমাজ দৃঢ় ও সাহসী হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব বহু ইতিহাসের সাক্ষী। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস বানুকে দেখে আরও অনেক নারী সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে অনুপ্রাণিত হবেন। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনাদের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বাংলার নারীরা অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার দীপশিখা হয়ে থাকবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কর্পোরেট খাত, চিকিৎসা, শিক্ষা, আইন, ক্রীড়া, শিল্প ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও, বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের নারীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। অনলাইন হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড সন্ত্রাস এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমেদ এবং ক্রীড়া উপকমিটির আহ্বায়ক শাহনাজ বেগম পলি।
এ সময় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস বানুকে জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণ করে মমতাজ বিলকিস বানু বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের এই স্বীকৃতি একজন সাংবাদিকের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি বলেন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যেসব নারী সংগ্রাম করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের সবার প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।







