কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে ‘স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে কম্পিটিশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাসেট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং ইন্সট্রাক্টর এস এম তাহমিদ সাদিক। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে করণীয় বিষয়ে মতামত জানতে চান। তিনি সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে মোট ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্য থেকে সেরা ৬টি প্রকল্প আগামী ১৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন একসেলেরাটিং এন্ড স্ট্রেঞ্জথেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রকল্পের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষা আজ আর বিকল্প কোনো ধারা নয়, এটি এখন আমাদের জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়, উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যেভাবে জাপান, জার্মানী প্রভৃতি দেশ উন্নতি করেছে, আমাদেরকেও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সনদ প্রদান নয়, বরং এমন দক্ষতা তৈরি করা, যা সরাসরি কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম।
স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার এবং কারিগরি শিক্ষা সেই রূপান্তরের প্রধান মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে স্কিলস কম্পিটিশন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আমাদের তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। তিনি এ সময় নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুন:ব্যক্ত করেন।
আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং এতে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। সেখান থেকে বাছাই করা প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে অংশ নেয়।
আগামী ১৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বে ৮টি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত মোট ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী তিনটি প্রকল্পের উদ্ভাবকদের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।







