সনি লিভ–এর রাজনৈতিক থ্রিলার সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ দিয়ে আগামী ১৯ মার্চ বলিউড যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। সিরিজটিতে তিনি অভিনয় করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্র জিমি রয় হিসেবে, যার চারপাশেই আবর্তিত হয়েছে পুরো কাহিনি।
শুভর এই বলিউড অধ্যায়ের শুরুটা সহজ ছিল না। প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অডিশন ও অপেক্ষার পর মিলেছে চূড়ান্ত সম্মতি। অভিনেতা জানান, প্রথম যোগাযোগ করেন বলিউডের প্রখ্যাত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। সে সময় তিনি নেপালে ছিলেন। একটি ওয়েব সিরিজের অডিশনের প্রস্তাব পেয়ে রাজি হয়ে যান।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ প্রক্রিয়া। কখনও শুধু অডিও পাঠিয়ে, কখনও মুম্বাইয়ে ডেকে একাধিক ধাপে অডিশন নেওয়া হয়। দুই বছর ধরে চিত্রনাট্য পাঠানো, একই দৃশ্য বিভিন্নভাবে অভিনয় করে পাঠানো- সব মিলিয়ে কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন শুভ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে সিরিজটির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিচালক সৌমিক সেন–এর সঙ্গে মঞ্চে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন শুভ। হাসতে হাসতে জানান,“গত তিন বছরে এই প্রথমবার পরিচালক তার প্রশংসা করেছেন!”
সৌমিক সেন শুধু পরিচালনাই করেননি, সিরিজটির গল্প ও চিত্রনাট্যও তারই। ‘গুলাব গ্যাং’ এবং ‘মহালয়া’–এর পর দীর্ঘ বিরতিতে বড় নির্মাণে ফেরেন তিনি। জনপ্রিয় সিরিজ ‘জুবিলী’–এর চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত এই নির্মাতা জানান, ‘জ্যাজ সিটি’ নির্মাণে তার সময় লেগেছে সাত বছর।
সৌমিক বলেন, সিরিজ লেখার সময়ই তিনি ঠিক করেছিলেন—প্রতি এপিসোডে থাকবে অন্তত একটি গান এবং একটি খুনের ঘটনা। কারণ তিনি অ্যাকশন ও গানের ভক্ত।
‘জ্যাজ সিটি’তে শুভ অভিনয় করেছেন চারটি ভাষায়—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। এটি তার প্রথম বলিউড প্রজেক্ট হলেও চরিত্রের গভীরতা ও বহুভাষিক চ্যালেঞ্জ তাকে নতুন মাত্রায় উপস্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুভর বিপরীতে দেখা যাবে সৌরসেনী মিত্র–কে। এছাড়াও রয়েছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহাসহ বলিউড ও টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ।
এই সিরিজের বিশেষ দিক হলো হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি এবারই প্রথমবারের মতো সনি লিভে কোনো সিরিজ বাংলা ভাষায় মুক্তি পাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদের জন্য এটি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।








