যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ সপ্তাহ ধরে চলা প্রশাসনিক অচলাবস্থা বা শাটডাউনে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির অর্থনীতি ও বিমান পরিবহন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। অচলাবস্থার জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টি একে অপরকে দোষারোপ করছে। আর দ্রুত শাটডাউনের অবসান চান প্রবাসীসহ যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীরা।
৩৮ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো প্রকার সমঝোতায় ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে চলছে দীর্ঘতম সরকারি শাটডাউন। ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া ‘ল্যাপস অফ অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন’—অর্থাৎ বাজেট পাস না হওয়ায় সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার ফেডারেল কর্মচারীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে—অর্থাৎ কাজ ছাড়াই অবৈতনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে তাদের। আরও লক্ষাধিক কর্মীকে বেতন ছাড়া কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১০টি সংস্থায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। আরও লক্ষাধিক কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছে।
এই শাটডাউনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টিরও বেশি বিমানবন্দর তাদের কার্যক্রম সীমিত বা আংশিক বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে লাখো যাত্রী চরম বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফ্লাইট বাতিল, দীর্ঘ লাইন, নিরাপত্তা পরীক্ষায় বিলম্ব—সর্বত্র বিশৃঙ্খলা।
শাটডাউনের ফলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হচ্ছে। অনেক আমেরিকানকে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সহায়তা নিতে দেখা যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এই শাটডাউনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, এই শাটডাউনের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ডেমোক্র্যাটরা। তারা আমেরিকার সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিপক্ষে। আমরা আমেরিকান জনগণের জন্য কাজ করতে চাই, কিন্তু তারা বাধা দিচ্ছে।
অপরদিকে, সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার এবং কংগ্রেস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস এর জন্য ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের দায়ী করছেন। তিনি বলেন, এই শাটডাউন সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের তৈরি। তারা আমেরিকান জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। আমরা বাজেট পাস করতে প্রস্তুত, কিন্তু তারা অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আসছে।
কংগ্রেস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এই শাটডাউন একটি মানবসৃষ্ট সংকট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দল আমেরিকান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করছে। লাখ লাখ কর্মচারী এবং তাদের পরিবার কষ্টে আছে, কিন্তু তারা তাদের রাজনৈতিক খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাস, ভোক্তা আস্থা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই শাটডাউন আগামী থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমনটি হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। আশা করা যায়, শিগগিরই একটি সমাধান বের হবে।


