যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মী বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের দুই দিনের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করা শুরু হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। অন্যদিকে, আইনপ্রণেতারা সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরকারি এই শাটডাউন বা অচলাবস্থার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
আজ ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটরা মধ্যরাতের সময়সীমার আগে নতুন একটি ব্যয় পরিকল্পনায় একমত হতে না পারায় বুধবার থেকে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আপোস করতে ইচ্ছুক––এমন লক্ষণ কোনো পক্ষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে না। একইসাথে এই অচলাবস্থা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই, তা বন্ধের জন্য একটি ভোট করার উদ্যোগও ব্যর্থ হয়েছে।
এই অচলাবস্থা নিয়ে ডেমোক্রেটদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক খেলা খেলার অভিযোগ করে ভ্যান্স বলেন, যদি আমেরিকান জনগণের ওপর এর প্রভাব নিয়ে এতোই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে তাদের চিন্তিত হওয়াই উচিত। তাদের যেটা করা উচিত তা হলো সরকারের কর্মকাণ্ড আবার চালু করা। আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই সেটা নিয়ে অভিযোগ করা উচিত নয়।
প্রথা অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম চালু রাখতে কংগ্রেসকে বাজেট বা অন্তত একটি কন্টিনিউয়িং রেজলিউশন পাস করতে হয়। কিন্তু এবার সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট না পাওয়ায় কোনো প্রস্তাবই গৃহীত হয়নি। ফলে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ বা শাটডাউন শুরু হয়েছে। এর ফলে জরুরি সেবা ছাড়া অধিকাংশ সরকারি দফতরের কাজ বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সরকারি সংস্থা কংগ্রেস থেকে অনুমোদিত বার্ষিক তহবিলের ওপর নির্ভর করে। প্রতি বছর কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন এই সংস্থাগুলো তাদের অনুরোধ জমা দেয়, যা কংগ্রেসকে পাস করতে হয় এবং প্রেসিডেন্টকে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য বাজেট আইনে স্বাক্ষর করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউন হয়েছিল ২০১৮-১৯ সালে, যা টানা ৩৫ দিন স্থায়ী ছিল। এবারও অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।








