আদালত কক্ষে অশোভন আচরণ করায় হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির বকুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত।
গত ২০ মার্চ বুধবার এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির বকুলকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে হবিগঞ্জ আদালতে একটি মামলার শুনানীকালে এডভোকেট মোছাব্বির শুনানীর ডায়াসের কাছাকাছি এসে লিফলেট হাতে নিয়ে সবার সাথে হাস্য-রসাত্মকভাবে ভাব বিনিময় করে উচ্চস্বরে ভোট প্রার্থনাসহ বিভিন্ন খোশ গল্প করতে থাকে।

এতে আদালতের বিচার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে আদালত থেকে কারও নাম উল্লেখ না করে সবাইকে এহেন কর্ম থেকে বিরত থেকে বিজ্ঞ আদালতকে সহযোগিতা করার আহ্বান করলে এডভোকেট মোছাব্বির পেছনের সারি থেকে মুখ ঘুরিয়ে খুব আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ডায়াসের সামনে এসে হাত দিয়ে জোরে ডায়াসে বাড়ি মেরে খুবই আপত্তিকরভাবে আদালতের কাছে প্রশ্ন করেন, তাকেই উক্ত আহ্বান করা হয়েছে কি না?
এরপর তিনি নিজেকে বারের সম্পাদক পরিচয় দিয়ে হাত নাড়িয়ে নিজের ক্ষমতার ফিরিস্তি জানান দেন এবং আদালতকে বিভিন্ন অশ্রাব্য, অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় হুমকি-ধমকী প্রদান করেন। তখন আদালতে উপস্থিত আইনজীবী তাজ উদ্দিন সুফি, আফজাল আলী, আবুল ফজল ও রহমতে এলাহীসহ অন্যান্য আইনজীবীরা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আদালতের প্রতি অশালীন আচরণ প্রদর্শন করেন।
এর ফলে শুনানী ও বিচার কাজ প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় আদালত। সেখানে উপস্থিত আইনজীবী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য, আদালতের কর্মচারী এবং বিচারপ্রার্থীদের সামনে তিনি এমন আচরণ করে বিচার ব্যবস্থাকে চরমভাবে কটাক্ষ করেছেন। তার এই আচরণ এজলাস কক্ষে স্থাপিত সিসি টিভি ভিডিও ফুটেজে সংরক্ষিত হয়েছে।
এই অসদাচরণের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম তার কাছে ব্যাখ্যা চাইলে পরবর্তীতে তিনি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কামরায় প্রবেশ করে মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপরও তিনি প্রতিনিয়ত একই ধরণের কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন। যা বার ও বেঞ্চের সুসম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৭ দিনের মধ্যে আদালতে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির বকুলকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।








