চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

  • নির্বাচন ২০২৬
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

টুঙ্গিপাড়ার খোকা থেকে শেখ মুজিব, বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতা

বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকীবিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী
৮:০১ অপরাহ্ন ০৫, আগস্ট ২০২৩
মতামত
A A
বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, নদ-নদী, খাল-বিল, পাহাড়-পর্বতসহ প্রাকৃতিক রূপ-বৈচিত্রে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশ। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে সিকিম ও মেঘালয়, পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতি বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় রাজনৈতিক জীবন।

এদেশের কৃষক-শ্রমিক, মুটে-মজুর ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পরাধীনতার শেকল থেকে আমাদের দেশ মাতৃকা ও বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে যিনি জীবনের সিংহভাগ সময় জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সুচিন্তিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা যে সম্ভব তা সমগ্র পৃথিবীর মানুষের কাছে তিনি প্রমাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু কেবল বাঙালি জাতির অধিনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন পৃথিবীর বঞ্চিত সমগ্র মানব গোষ্ঠির পথ-প্রদর্শক ও মহাননেতা। বঙ্গবন্ধু কেবল মাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি চেয়েছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবিক রাষ্ট্রীয় সভ্যতা, সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা, সকল মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুখী সমৃদ্ধশালী জাতি গঠনের মাধ্যমে বিশ্ব সভায় বাঙালি জাতির সুদৃঢ় অবস্থান সৃষ্টি করতে। এই মহাপুরুষের জন্ম না হলে হয়তো আজকের বাংলাদেশ আমরা পেতাম না।

বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, দর্শন বিশ্ব মানবতার জন্য তার চিন্তা ধারাবাহিক ভাবে লিপিবদ্ধ করা দুঃসাধ্য বৈকি? প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সংক্ষেপে নব প্রজন্মের উদ্দেশ্যে লিপিবদ্ধ করার চিন্তা থেকে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। প্রারম্ভেই আমি টুঙ্গিপাড়ার থোকা থেকে শেখ মুজিব, বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতা পথ পরিক্রমা সংক্ষেপে আলোকপাত করতে চাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৭ই মার্চ ১৯২০ সালে ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার আদরের খোকা। তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়েরা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে শেখ মুজিব ছিলেন তৃতীয় সন্তান। মা-বাবা তাকে খোকা নামে ডাকতেন। শেখ মুজিবের শৈশবকাল কেটেছে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। ১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে নিজ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোকার প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র জীবনের সূচনা হয়। তিনি ৯ (নয়) বছর বয়সে ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে এবং পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় মিশনারী স্কুলে ভর্তি হন। অসুস্থতার কারণে তার লেখাপড়ায় সাময়িক বিরতি ঘটে এবং চার বছর শিক্ষা জীবন ব্যাহত হওয়ার পর ১৯৩৭ সালে পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শনে এলে শৈশবকাল থেকে ডানপিটে স্বভাবের শেখ মুজিব দাবি আদায়ের মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৩৮ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি শেখ ফজিলাতুন্নেছার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। হন। তাদের দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করার কারণে ১৯৩৯ সালে বঙ্গবন্ধুর কারা জীবন শুরু হয়। ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু এন্ট্রাস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ১৯৪৪ সালে শেখ মুজিব কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন। একই বছরে ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৪৬ সালে শেখ মুজিব বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারীর দায়িত্ব লাভ করেন। প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। তিনি ঢাকায় অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক যুব কর্মীদের সম্মেলনে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন উর্দুকে পাকিস্থানের রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেন। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘটের ডাকদিলে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন কিন্তু পূর্ব বাংলার ছাত্র জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। ফরিদপুরের কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের প্রায় চার মাস পর ২১ জানুয়ারি, ১৯৪৯ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৪৯ সালের ৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের দাবি দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তাদের ধর্মঘটকে সমর্থন জানান। আন্দোলনে যোগ দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে অযৌক্তিভাবে জরিমানা করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সৃষ্ট আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে না গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। একই বছর পূর্ব বাংলায় দুর্ভিক্ষ শুরু হলে খাদ্যের দাবিতে তিনি আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি কঠোর আন্দোলনের কারণে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকতসহ আরও অনেকে নিহত হন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু জেল থেকে বিবৃতি দেন এবং একটানা অনশন অব্যাহত রাখেন। টানা অনশনে অসুস্থ হওয়ায় ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যগত কারণে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। ১৯৫৩ সালের ১৬ নভেম্বর প্রাদেশিক আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

Reneta

১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ থেকে বিজয়ী হয়ে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রীসভায় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রীসভা বাতিল ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় ফিরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর জেল গেটেই নিরাপত্তা আইনে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। কারা মুক্তির পর ১৯৫৫ সালের ৫ জুন শেখ মুজিব পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ঢাকার পল্টনের জনসভায় তিনি পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন দাবি করেন।

১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ পূর্বক দলের নাম পরিবর্তন করে মুসলিম আওয়ামী লীগ থেকে আওয়ামী লীগ নামকরণ করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্তি পেলেও তার গতিবিধির ওপর নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকে। ঐ সময় তিনি বার বার গ্রেপ্তার হন এবং আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ৪ বছরের সামরিক শাসনের অবসানের পর ১৯৬২ সালের ১৮ জুন শেখ মুজিব মুক্তি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। তিনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিরোধী প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেন। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল কমবাইন্ড অপজিশন পার্টি (কঅপ) গঠিত হওয়ার পর ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কঅপ এর পক্ষ থেকে মিস ফাতিমা জিন্নাহকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ ফাতিমা জিন্নাহকে সমর্থন করে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেখ মুজিবকে নির্বাচনের ১৪ দিন আগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। ঐ নির্বাচনে ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আইয়ুব খান বন্দুকের নলে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির সনদ ৬ দফা গৃহীত হয়। ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গঠনে প্রচারণা শুরু করলে বঙ্গবন্ধুকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। আইয়ুব সরকার ৩ মাসে শেখ মুজিবকে ৮ বার গ্রেপ্তার করে তাকে নির্জন কারাবাসে প্রেরণ করে।

১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামী করে ৩৫ জন বাঙ্গালী সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন। বঙ্গবন্ধু নিজেদের নিদোর্ষ দাবি করে আদালতে লিখিত বিবৃতি দেন। এই বিবৃতি বাংলার মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেলে শেখ মুজিবসহ সকলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সাধারণ মানুষের আন্দোলন পর্যায়ক্রমে তীব্র গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র সমাজ ছয় দফা দাবির সমর্থনে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে। উদ্ভুত পরিস্থিতি ঠেকাতে পাকিস্তানের সামরিক সরকার ১৯৬৯ সালের ৩০ জানুয়ারি আলোচনার জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হলে শেখ মুজিব ওদের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে নির্মমভাবে হত্যা করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের ন্যায় মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে সরকার নতি স্বীকারে বাধ্য হয়ে শেখ মুজিবসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। কারাগার থেকে মুক্তির পর ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ডাকসু এবং ছাত্রলীগ একসঙ্গে ঢাকায় বিশাল সম্বর্ধনা সভায় শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আইয়ুব খান রাওয়াল পিন্ডিতে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ৬ দফার পক্ষে বঙ্গবন্ধু দৃঢ় অবস্থান নিলে বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভন্ডুল হয়ে যায়। গোল টেবিল বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় আইয়ুব খান সামরিক প্রধান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ক্ষমতায় এসে ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারি করেন। সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

(চলবে)

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: টুঙ্গিপাড়াবঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে চারে চার ভারতের

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে এস জয়শঙ্করের অভিনন্দন

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

সাংবাদিক-কর্মচারীদের ‘অনাস্থা’, অফিস থেকে বের হয়ে গেলেন বাসস এমডি

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে আলোচনা শুরু বাংলাদেশ-ভারতের

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

টানা ৩৬ দিন বন্ধ থাকছে স্কুল, কাল থেকে ছুটি শুরু

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT